বন দপ্তরে নিয়োগে নজিরবিহীন স্বচ্ছতা! দায়িত্ব পেল পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড

রাজ্য বন দপ্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঐতিহাসিক ও বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার সল্টলেকের বনবিতানে অরণ্য উৎসবের সূচনা করতে গিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, এখন থেকে বন দপ্তরের যাবতীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে ‘পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড’।
দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগের লক্ষ্য: বিগত সময়ে বন দপ্তরে নিয়োগ ঘিরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ‘বন সহায়’ পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে হাইকোর্ট পর্যন্ত জল গড়িয়েছিল। সেই অতীত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি রুখতেই মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের ওপর ভরসা রেখেছেন। তাঁর মতে, একটি দক্ষ ও নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ হলে মেধাবী প্রার্থীরাই যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাবেন।
শূন্যপদ পূরণে কড়া নির্দেশ: বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, দ্রুত বন দপ্তরের শূন্যপদ এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর একটি তালিকা তৈরি করে মুখ্য সচিবের কাছে জমা দিতে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা কর্মীদের সহায়তায় সরকার দ্রুত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে।
বন পুনরুদ্ধারে বিশাল পরিকল্পনা: প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গল ধ্বংস ও অরণ্য সম্পদ লুটের অভিযোগ এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের জঙ্গল অধ্যুষিত এলাকাগুলোর পরিবেশ আজ বিপন্ন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘অরণ্য সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে রাজ্যে ৭ কোটি ৫০ লক্ষ গাছ লাগানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। এই কর্মসূচি সফল করতে প্রতিটি পঞ্চায়েত সদস্যকে ১ হাজারটি এবং বিধায়কদের ১ লক্ষটি করে গাছ লাগানোর দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই দুই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত—স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি—রাজ্যে সুশাসন ও পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। নিয়োগ দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার খবরে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।