অতীতের দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে নয়া কমিশন শুভেন্দু সরকারের, নেতৃত্বে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের (২০১১-২০২৬) আমলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে এবার বিশেষ কমিশন গঠন করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। গত ১০ জুলাই নবান্নের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এই তদন্ত চলবে।
কমিশনের আওতা ও তদন্তের বিষয়: শিক্ষা, খাদ্য, বিপর্যয় মোকাবিলা, পুরসভা, পঞ্চায়েত, আবাসন ও মৎস্য দফতর সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হওয়া আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে এই কমিশন। বিশেষত:
- প্রধান দুর্নীতিসমূহ: আম্পান ত্রাণ, ১০০ দিনের কাজ, মিড-ডে মিল, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এবং সরকারি হাসপাতালের দুর্নীতির অভিযোগ।
- অন্যান্য বিষয়: ক্ষমতার অপব্যবহার, বেআইনি নির্মাণ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং মিথ্যা মামলা বা বেআইনি গ্রেফতারের ঘটনা।
কমিশনের গঠন ও ক্ষমতা: বিচারপতি বসুর নেতৃত্বে এই কমিশনের তদন্ত বিভাগে থাকছেন একজন প্রবীণ আইপিএস অফিসার, প্রশাসনিক দায়িত্বে এক জন আইএএস/ডব্লিউবিসিএস অফিসার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় থাকছেন ডব্লিউবিআরএস-এর এক অফিসার। কমিশনের সিভিল কোর্টের ন্যায় ক্ষমতা থাকবে এবং প্রয়োজনে যে কাউকে তলব করার অধিকারও তাদের রয়েছে। দুর্নীতির প্রমাণ মিললে কমিশন পুলিশকে সরাসরি এফআইআর করার সুপারিশ করতে পারবে। তবে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI/ED) যে সব মামলার তদন্ত করছে, সেগুলি এই কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত নয়।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, দুর্নীতির সাথে জড়িতদের কেবল কারাদণ্ডই নয়, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলাম করে সেই জায়গায় সাধারণ মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নেই এই কমিশন গঠনের পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।