আর কোনো ছাড় নয়! পূর্ব কলকাতা জলাভূমি রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুরনিগমের

আর কোনো ছাড় নয়! পূর্ব কলকাতা জলাভূমি রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুরনিগমের

পূর্ব কলকাতা জলাভূমি রক্ষায় এবার চূড়ান্ত কঠোর অবস্থানে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এক শুনানিতে কলকাতা পুরনিগম আদালতকে জানায়, জলাভূমি বাঁচাতে এখন থেকে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ বা বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, প্রতি মাসে জলাভূমি রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতকে জমা দিতে হবে।

আদালতের হুঁশিয়ারি প্রশাসনের কাজে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত তিন বছর ধরে শুধু রিপোর্ট জমা পড়ছে। আদালত আর শুধু কাগজে-কলমে কাজ দেখতে চায় না, এবার সরাসরি কার্যকরী পদক্ষেপের প্রয়োজন। আগামী ১৪ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক এবং পুরনিগম কমিশনারকে সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনি জটিলতা ও প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ পুরনিগম ও রাজ্য প্রশাসনের দাবি, জলাভূমিতে বেআইনি নির্মাণ সরাতে গিয়ে নানাবিধ বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। প্রায় হাজারখানেক আইনি মামলা থাকায় উচ্ছেদ অভিযানে দেরি হচ্ছে। তবে এবার সব অজুহাত সরিয়ে বেআইনি দখলদারদের থেকে জলাভূমি মুক্ত করার অঙ্গীকার করেছে প্রশাসন।

সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী, শহরের বেআইনি ফ্ল্যাট ও বাড়িগুলোর তালিকা দ্রুত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ না জেনে এসব সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত না হন। এছাড়া, চিহ্নিত ৫০০-র বেশি বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ অবিলম্বে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের গতি সন্তোষজনক না হলে আদালত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থান শহরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, তবে প্রশাসনের তরফ থেকে ঠিক কত দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *