নিম্ন আদালতে বড় ধাক্কা! গ্রেফতারি এড়াতে এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ অনুব্রত

নিম্ন আদালতে বড় ধাক্কা! গ্রেফতারি এড়াতে এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ অনুব্রত

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সমীকরণ পাল্টালেও আইনি অস্বস্তি পিছু ছাড়ছে না বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডলের। ২০২১ সালের একটি পুরনো রাজনৈতিক হিংসা ও লুটপাটের মামলায় গ্রেফতারি এড়াতে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। নিম্ন আদালতে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরই উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলেন তৃণমূলের (ঋতব্রতপন্থী) এই জেলা সভাপতি।

কী এই মামলা?

  • ঘটনার সূত্রপাত: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বোলপুরের ত্রিসুলাপট্টির বাসিন্দা তথা বিজেপি সমর্থক ব্যবসায়ী শুভেন্দু মণ্ডলের শান্তিনিকেতন থানা এলাকার একটি ইটভাটায় হামলা হয়।
  • অভিযোগের তির: ব্যবসায়ীর অভিযোগ, অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশে প্রায় ২০০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী ওই ইটভাটায় চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
  • লুটপাট ও হুমকি: ইটভাটা থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুট করার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও তাঁর কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে। এতদিন শাসকদলের ভয়ে মুখ না খুললেও, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর শান্তিনিকেতন থানায় অনুব্রতর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ী।

হাইকোর্টে পরবর্তী পদক্ষেপ

নিম্ন আদালতের ধাক্কা সামলে এবার আইনি রক্ষাকবচ পেতে মরিয়া অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে কলকাতা হাইকোর্টে এই এফআইআর খারিজ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষাকবচের আবেদন জানানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। উচ্চ আদালত অনুব্রতকে কতটা স্বস্তি দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গরুপাচার ও আর্থিক তছরুপের মামলায় দীর্ঘ সময় দিল্লির তিহার জেলে কাটানোর পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন অনুব্রত। তবে জেল থেকে ফিরেই বদলেছে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সরে এসে তিনি বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন ধারার তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। একদিকে দলের পুরনো নেতৃত্বের প্রতি তাঁর ক্ষোভপ্রকাশ, আর অন্যদিকে এই পুরনো মামলার আইনি লড়াই— দুই মিলিয়ে অনুব্রতর রাজনৈতিক জীবনে নতুন কোনো সংকট তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *