গগনযানের আগেই ইসরোতে ইস্তফার হিড়িক! বিজ্ঞানীদের আটকাতে তড়িঘড়ি কড়া নির্দেশিকা

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-তে আচমকা ইস্তফার হিড়িক! গগনযান সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মিশনের আগে একের পর এক হাইপ্রোফাইল বিজ্ঞানীর চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্তে রীতিমতো কপালে ভাঁজ পড়েছে কেন্দ্রের। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার পদত্যাগের নিয়মে কড়াকড়ি করল ডিপার্টমেন্ট অফ স্পেস।
এক নজরে খবরের হাইলাইটস:
- গত কয়েক মাসে ইসরো থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ১০০ থেকে ১২০ জন বিজ্ঞানী।
- পদত্যাগীদের তালিকায় রয়েছেন চন্দ্রযান-৩ ও গগনযানের মতো প্রজেক্টের কারিগররাও।
- পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রুপ-এ (Group A) বিজ্ঞানীদের স্বেচ্ছাবসর বা ইস্তফায় কড়া নিষেধাজ্ঞা।
- শূন্যপদ পূরণে ১,০৫০-এর বেশি পদে দ্রুত নিয়োগের তোড়জোড় শুরু।
কেন হঠাৎ ইস্তফার হিড়িক? সরকারিভাবে ইসরোর তরফে সঠিক সংখ্যা জানানো না হলেও, সূত্রের খবর, গত কয়েক মাসে বেঙ্গালুরুর ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার (URSC) থেকে ৮০ জন এবং তিরুবনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার থেকে ২০ জন বিজ্ঞানী ইস্তফা দিয়েছেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, এদের মধ্যে অনেকেই গগনযান, চন্দ্রযান এবং SpaDeX-এর মতো দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই তালিকায় রয়েছেন LVM3 প্রজেক্ট ডিরেক্টর ভিক্টর জোসেফ এবং চন্দ্রযান-৩ এর সফট ল্যান্ডিংয়ের নেপথ্যে থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী আদিত্য রাল্লাপল্লি।
পদত্যাগ রুখতে কড়া নির্দেশিকা বিজ্ঞানীদের এই আচমকা প্রস্থানে জাতীয় স্তরের মহাকাশ মিশনগুলি বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই গত ১৪ জুলাই একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে ডিপার্টমেন্ট অফ স্পেস। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী:
- গগনযান বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মিশনের সঙ্গে যুক্ত Group A ক্যাটেগরির বিজ্ঞানী ও টেকনিক্যাল স্টাফদের ইস্তফা বা স্বেচ্ছাবসরের আবেদন রুটিন নিয়মে আর গ্রহণ করা হবে না।
- ২০২০ সালের নিয়ম বাতিল করে জানানো হয়েছে, এখন থেকে কোনও সেন্টারের ডিরেক্টর পদত্যাগপত্র অনুমোদন করতে পারবেন না।
- গুরুত্বপূর্ণ মিশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে খোদ মহাকাশ দফতর।
কী বলছে ইসরো? এই গণ-ইস্তফার ঘটনায় ইসরোর চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে বেশ কয়েকজন দক্ষ বিজ্ঞানী সংস্থা ছেড়েছেন, তবে ইসরোর হাতে এখনও এই শূন্যস্থান পূরণের মতো দক্ষ জনবল রয়েছে। তাঁর দাবি, এই পদত্যাগে সংস্থার বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কোনও প্রোজেক্টেই প্রভাব পড়বে না।
ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিকল্প তৈরি করতে ১,০৫০টিরও বেশি শূন্যপদে নতুন বিজ্ঞানী ও কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু করেছে ইসরো।