জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র নিয়ে বড়সড় রদবদল রাজ্যে! ভুয়ো সার্টিফিকেট রুখতে নয়া নিয়ম জারি
July 16, 20266:17 pm

ভুয়ো জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র (Birth and Death Certificate) রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে ‘রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থস অ্যান্ড ডেথস (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬’। নতুন এই নির্দেশিকায় শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন।
বিশেষত ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় রাজ্যে প্রচুর ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেটের হদিস মেলে। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। নতুন নিয়মে কী কী বদল এল? জেনে নিন একনজরে:
- নাম ও ঠিকানায় কড়াকড়ি: এবার থেকে সার্টিফিকেটে নামের কোনো শর্ট ফর্ম (Short form) বা আদ্যক্ষর ব্যবহার করা যাবে না। ‘ফার্স্ট নেম’, ‘মিডল নেম’ এবং ‘লাস্ট নেম’— এই ফরম্যাটেই পুরো নাম লেখা বাধ্যতামূলক। ঠিকানার ক্ষেত্রেও গ্রাম/ওয়ার্ড, ব্লক/সাব-ডিভিশন, জেলা, পিন কোড এবং বাড়ির নম্বর স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে।
- দেরিতে আবেদনে ঘোর বিপত্তি: ১. ৩০ দিন পর: নির্ধারিত সময়ের (২১ দিন) পর এবং ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করলে সেলফ ডিক্লারেশন ও বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হবে। ২. ১ বছরের বেশি দেরি হলে: এসডিও (SDO) বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (DM) লিখিত অনুমোদন ছাড়া সার্টিফিকেট মিলবে না। ৩. ২ বছরের বেশি দেরি হলে: বিষয়টি আরও জটিল হবে। এক্ষেত্রে সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়া কোনওভাবেই শংসাপত্র ইস্যু করা হবে না।
- বাড়ল জরিমানা ও ফি: দেরিতে নথিভুক্তিকরণ বা সার্টিফিকেটের কপি নেওয়ার ক্ষেত্রে ফি এবং জরিমানার পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে।
- মৃত্যুর ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম: বাড়িতে বা হাসপাতালে নয় এমন জায়গায় (অ-প্রাতিষ্ঠানিক) মৃত্যুর ক্ষেত্রে এবার থেকে এমবিবিএস (MBBS) বা স্বীকৃত আয়ুষ (AYUSH) চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল ডেথ সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে পুরো প্রক্রিয়াটি অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও চালু থাকছে। চাইলেই ই-সার্টিফিকেট ডাউনলোড করা যাবে। রাজ্যের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে ভুয়ো শংসাপত্রের রমরমা কারবার পুরোপুরি বন্ধ হবে বলেই আশাবাদী প্রশাসন।