“ছেলের চিতায় আগুন, ১৭ দিনের মাথায় হারালেন বাবাকেও! পুনের কেতন হত্যায় ফাস্ট-ট্র্যাক বিচারের আর্জি”

পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল (২৪) হত্যা মামলায় এবার সামনে এল এক চরম মর্মান্তিক চিত্র। একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই, মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে নিজের বাবাকেও হারালেন কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল। শোকস্তব্ধ বিশালবাবু এবার ছেলে হত্যার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হয়েছেন।
পরপর দুই মৃত্যুতে দিশেহারা পরিবার বিশাল আগরওয়ালের দাবি, ছেলের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ধাক্কা সহ্য করতে না পেরেই তাঁর বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত ১৮ জুন দিনটিকে জীবনের ‘অন্ধকার দিন’ আখ্যা দিয়ে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “সব বাবা ছেলের বিয়ে দেখতে চায়, আর আমার ভাগ্যে জুটল ছেলের শবযাত্রায় কাঁধ দেওয়া। এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই বাবাকেও হারালাম। এই যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে বিচারের আর্জি পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেই বিশালবাবু জানিয়েছেন, তিনি চান ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে এই মামলার বিচার হোক। দোষীরা যেন দ্রুত এবং কঠোরতম শাস্তি পায়। এই মর্মে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে চিঠিও পাঠিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান না, শুধু নিরপেক্ষ বিচার চান।
ঘটনার নেপথ্যে হবু স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক! উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন পুনের লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিং করতে গিয়ে খাদে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। প্রথমে দুর্ঘটনা মনে হলেও পুলিশি তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে পরিকল্পনা করে কেতনকে পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে খুন করেছেন। ২৩ জুন ওই দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে তারা পুনের ইয়েরওয়াড়া জেলে বন্দি।
মধ্যস্থতাকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের দাবি কেতনের বাবা জানান, আত্মীয় নরেন্দ্র জগন্নাথ মিত্তল এবং রেনু মিত্তল এই বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে এসেছিলেন। মেয়েটিকে অত্যন্ত ‘ভদ্র ও সংস্কৃতিবান’ বলে পরিচয় দেওয়ায় তাঁরা বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন। বিশালবাবুর দাবি, তদন্তের স্বার্থে এই মধ্যস্থতাকারীদেরও নিরপেক্ষভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত, যাতে আরও অনেক অজানা তথ্য সামনে আসে।
পরিশেষে সমাজের কাছে ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে পাশে থাকার আবেদন জানিয়ে কেতনের বাবা বলেন, “এই সম্পর্ক পছন্দ না হলে বিয়ে ভেঙে দিতে পারত। কিন্তু একজন নিরীহ যুবকের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।”