উত্তরে প্লাবন, দক্ষিণে খরা! আগামী ১০ দিন কোন রাজ্যে কেমন বৃষ্টি?

দীর্ঘদিন বৃষ্টির ঘাটতিতে ভোগার পর অবশেষে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্বমূর্তিতে ফিরতে চলেছে বর্ষা। তবে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ১০ দিনে দেশের আবহাওয়ায় এক অদ্ভুত ‘উত্তর-দক্ষিণ বিভাজন’ দেখা যাবে। একদিকে উত্তর ও পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে, অন্যদিকে পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে চোখ রাঙাচ্ছে খরা!
কেন এই হঠাৎ পরিবর্তন? আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে দুটি সিস্টেম একসঙ্গে কাজ করছে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী নিম্নচাপ এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলের ‘বিএসআইএসও’ (BSISO) সিস্টেম অনুকূল পর্যায়ে থাকায় মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি উত্তর ও পূর্ব ভারতের দিকে প্রচুর জলীয় বাষ্প টেনে আনছে।
কোথায় কত বৃষ্টি? (১৯ থেকে ২৫ জুলাইয়ের সতর্কতা) আগামী ২০ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তর, পূর্ব ও মধ্য ভারতে ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
- অতি ভারী বৃষ্টি: উত্তরাখণ্ড (৩০০-৫০০ মিমি), উত্তরপ্রদেশ (২০০-৩৫০ মিমি), হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীর (১৫০-৩০০ মিমি)।
- ভারী বৃষ্টি: শনিবার থেকেই উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে বৃষ্টি শুরু হবে। রবিবার ও সোমবারের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়বে দিল্লি, পাঞ্জাব, চণ্ডীগড়, হরিয়ানা এবং পূর্ব রাজস্থানে।
পাহাড়ে পর্যটকদের জন্য চরম সতর্কতা টানা এই বৃষ্টির জেরে হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে ভূমিধস, হড়পা বান এবং মেঘভাঙা বৃষ্টির চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর তাই পর্যটকদের এই সময়ে পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
দক্ষিণ ও পশ্চিমে খরার ভ্রুকুটি উত্তরে যখন ভাসার জোগাড়, তখন মহারাষ্ট্র, গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং কর্ণাটকে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ইউরোপীয় আবহাওয়া মডেলের (ECMWF) তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত এই রাজ্যগুলিতে বৃষ্টির ঘাটতি খরার পরিস্থিতি আরও প্রবল করতে পারে।
কৃষকদের জন্য স্বস্তি ও সতর্কতা জুন ও জুলাইয়ের শুরুতে বৃষ্টির অভাবে খরিফ চাষ ব্যাহত হয়েছিল। উত্তরের কৃষকদের জন্য এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হলেও, খেত থেকে জল নিকাশির ব্যবস্থা মজবুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে অগাস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতেও বৃষ্টির পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে বলে আশাবাদী আবহাওয়াবিদরা।