হাসিনাকে কি বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে ভারত? অবশেষে মুখ খুলল বিদেশ মন্ত্রক

ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কি বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে ভারত? এই জল্পনার মাঝেই এবার মুখ খুলল নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঢাকার প্রত্যর্পণের আবেদনটি নয়াদিল্লির হাতে এসে পৌঁছেছে ঠিকই, তবে তা বর্তমানে আইনি পর্যালোচনার স্তরে রয়েছে।
কী জানাল বিদেশ মন্ত্রক? শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “আমরা বাংলাদেশের কাছ থেকে প্রত্যর্পণের একটি আবেদন পেয়েছি। তবে এই বিষয়ে বেশ কিছু আইনি প্রক্রিয়া ও জটিলতা রয়েছে। তাই পুরো আবেদনটি সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।”
দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাসিনা? ভারত যখন প্রত্যর্পণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, ঠিক তখনই জল্পনা ছড়িয়েছে যে শেখ হাসিনা নিজেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, আওয়ামী লিগকে নতুন করে পুনর্গঠন করতেই তিনি স্বেচ্ছায় ঢাকায় ফিরতে চান। দলের পাবলিসিটি সাব-কমিটির সদস্য কাজী নাসিম রূপক জানিয়েছেন, “আমাদের নেত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
প্রেক্ষাপট ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে পড়ে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা। এরপর ছাত্র আন্দোলনে দমন-পীড়ন ও খুনের মামলায় নভেম্বরে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয় ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। তারপর থেকেই হাসিনাকে দেশে ফেরাতে মরিয়া বাংলাদেশ।
হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের জমানায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে যথেষ্ট ফাটল ধরেছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তারেকের শপথগ্রহণে ভারতীয় প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এপ্রিলে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ভারত সফরও করেন। সম্পর্কের এই বরফ গলার মাঝেই হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন নিয়ে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে কূটনৈতিক মহল।