রিয়্যালিটি শো করছি না…’, ২১-এর মঞ্চে ব্রাত্য সেলিব্রিটিরা! বিশেষ ‘ব্যাজ’ নিয়ে মমতাকে কড়া তোপ ঋতব্রতর

আসন্ন ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে তৃণমূলের দুই শিবিরের (কালীঘাট এবং নব্য তৃণমূল) প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। শক্তি প্রদর্শনের এই স্নায়ুযুদ্ধে একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবির ‘প্রতীকে’ ভরসা রাখছে, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির কর্মীদের জন্য আনছে বিশেষ ‘ব্যাজ’।
কী এই ব্যাজ-রহস্য? ধর্মতলায় গান্ধি মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত শিবিরের সমাবেশে আগত জেলা কর্মীদের বিশেষ ব্যাজ দেওয়া হবে। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের দাবি, কে কোথা থেকে আসছেন তা সহজেই চিহ্নিত করতে এই ব্যাজের ব্যবস্থা। তবে কালীঘাট শিবিরের কটাক্ষ, বিনা বাধায় সভাস্থলে পৌঁছনোর জন্যই এই বিশেষ কৌশল নিয়েছে তারা। পালটা স্ট্র্যাটেজি হিসেবে কালীঘাট শিবির কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে, দলের পতাকা নয়, কেবল প্রতীক নিয়ে সভাস্থলে আসতে।
‘কোনও রিয়্যালিটি শো করছি না’ ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে গ্ল্যামার বা সেলিব্রিটিদের উপস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট জানান, “এটি শহিদ স্মরণ, কোনও রিয়্যালিটি শো বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়। মঞ্চে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন শহিদ পরিবারের সদস্যরাই।”
নিশানায় স্বয়ং মমতা শহিদ পরিবারগুলিকে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভয় দেখিয়ে আনা’ বা ‘বিক্রি হয়ে যাওয়া’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ঋতব্রত। তাঁর দাবি, “হতাশা ও রাজনৈতিক অবসাদ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দিয়ে এমন বিতর্কিত মন্তব্য বেরিয়ে আসছে। শহিদ পরিবারকে অপমান করার অধিকার কারও নেই।”
জমায়েতে হাইকোর্টের রাশ উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জমায়েতে ২৫০০ জনের রাশ টেনেছে। তবে গান্ধি মূর্তির সামনে নব্য তৃণমূলের জমায়েতে এমন কোনও বিধিনিষেধ নেই। তাই কালীঘাট শিবির এখন ‘সোশ্যাল’ জমায়েতে জোর দিলেও, ভিড় টানতে মরিয়া ঋতব্রত শিবির। দুই পক্ষের এই দড়ি টানাটানিতে এবারের ২১শে জুলাই যে এক অন্য রাজনীতির সাক্ষী হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।