‘অসত্য আর হিংসাই মোদী সরকারের মূলমন্ত্র’, অনশনরত সোনমকে সরাতেই ফুঁসে উঠলেন রাহুল!

‘অসত্য আর হিংসাই মোদী সরকারের মূলমন্ত্র’, অনশনরত সোনমকে সরাতেই ফুঁসে উঠলেন রাহুল!

নয়া দিল্লি: নিট (NEET) দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে দিল দিল্লি পুলিশ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, মোদী সরকারের মূল ভিত্তিই হল ‘অসত্য এবং হিংসা’।

রাহুলের নিশানায় কেন্দ্র শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’ (X)-এ রাহুল গান্ধী লেখেন, “অহিংসভাবে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকজিকে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে দেওয়াটা সম্পূর্ণ ভুল।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বলপ্রয়োগ করে দেশের ছাত্রসমাজের কণ্ঠস্বর রোধ করতে চাইছে। কিন্তু কোনও দমনপীড়নই তাঁদের রুখতে পারবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষার মাত্রাছাড়া খরচ এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনাকে তিনি দেশের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন।

কী ঘটেছে যন্তর মন্তরে? নিট পরীক্ষায় বেনিয়ম এবং তার জেরে ছাত্র আত্মহত্যার প্রতিবাদে গত ২৮ জুন থেকে অনশনে বসেছেন সোনম ওয়াংচুক। শনিবার ভোরে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের কারণ দেখিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আগামী ২০ জুলাই পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই সংসদের উদ্দেশ্যে তাঁদের পদযাত্রা হবে।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে রাহুলের তোপ দেরাদুনে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ সমাবেশে রাহুল গান্ধী দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর মূল অভিযোগগুলি হল:

  • দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেম: কোচিং সেন্টার থেকে শুরু করে এনটিএ (NTA) এবং শিক্ষা মন্ত্রক—গোটা ব্যবস্থাই দুর্নীতিতে ডুবে আছে। এর ফলে প্রায় সাড়ে সাত কোটি পড়ুয়া ক্ষতিগ্রস্ত।
  • আমূল সংস্কারের দাবি: বর্তমান সেকেলে ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক পদ্ধতির বদলে জি-ম্যাট (GMAT)-এর মতো প্রযুক্তিনির্ভর, সুরক্ষিত ও ‘র‍্যান্ডমাইজড’ পরীক্ষাব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
  • পড়ুয়াদের আত্মহত্যার দায়: নিট বাতিলের পর রিয়া কুমারী নামে এক ছাত্রীর আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলে রাহুল বলেন, এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সিস্টেমের ব্যর্থতার ফল। শিক্ষাব্যবস্থাকে একেবারে গোড়া থেকে এমনভাবে গড়তে হবে, যেখানে পড়ুয়ারা মানসিক চাপে পিষ্ট না হয়ে সুরক্ষিত বোধ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *