২১ জুলাইয়ের ফাইল খুললেন শুভেন্দু! শহিদ পরিবারকে বকেয়া ক্ষতিপূরণ ও নতুন FIR-এর ঘোষণা

কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সকালে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো বিকেলে বিধানসভায় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের বহু চর্চিত ফাইল প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। আর সেই ফাইল খুলতেই উঠে এল বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এদিন বিধানসভায় শহিদ ও আহতদের পরিবারের জন্য বকেয়া ক্ষতিপূরণ এবং নতুন করে আইনি পদক্ষেপের বড় ঘোষণা করেছেন তিনি।
কী উঠে এল ২১ জুলাইয়ের ফাইলে?
- ক্ষতিপূরণে বঞ্চনার অভিযোগ: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কমিশন ২১ জুলাইয়ের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু তৎকালীন মমতা সরকার তা মানেনি। মৃতদের পরিবারকে মাত্র ২ লক্ষ এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
- বকেয়া মেটানোর বড় ঘোষণা: মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঘোষণা করেন, বঞ্চিত পরিবারগুলি চাইলে তাঁর সরকার মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বাকি টাকা মিটিয়ে দেবে।
- নতুন করে FIR-এর সুযোগ: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি চাইলে এই ঘটনায় নতুন করে এফআইআর (FIR) দায়ের করতে পারবে বলেও জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।
কমিশনের রিপোর্টে কী ছিল? শুভেন্দু অধিকারী জানান, কমিশনের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল যে রাইটার্স বিল্ডিং থেকে অনেক দূরে জমায়েত হওয়ায় সেদিনের পুলিশি গুলির কোনও প্রয়োজন ছিল না। এমনকি রাইটার্স বিল্ডিং থেকে এই ঘটনার বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব হয়ে যাওয়ার কথাও রিপোর্টে বলা হয়েছিল এবং দোষীদের শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছিল।
ডাক পাননি মমতাই! তদন্ত চলাকালীন ৪৪ জন হেভিওয়েটকে তলব করেছিল কমিশন। তৎকালীন মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসু, সোমেন্দ্র নাথ মিত্রের মতো বড় নেতাদের ডাকা হলেও, আশ্চর্যের বিষয় হলো সেই সময়ের যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একবারও ডাকা হয়নি! এই প্রসঙ্গ তুলেও এদিন বিধানসভায় তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী।