পঞ্চায়েত প্রধানদের ডানা ছাঁটছে সরকার! সইয়ের অধিকার কাড়তে আসছে নতুন বিল

পঞ্চায়েত প্রধানদের ডানা ছাঁটছে সরকার! সইয়ের অধিকার কাড়তে আসছে নতুন বিল

বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের পর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা কার্যত স্তব্ধ। অভিযোগ, অধিকাংশ তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধানরা দফতরেই আসছেন না। এর ফলে থমকে রয়েছে গ্রামীণ উন্নয়নের কাজ, চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার।

কী থাকছে নতুন বিলে? সোমবার বিধানসভায় পঞ্চায়েত বাজেটের জবাবি ভাষণে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এক বড়সড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যেই বিধানসভায় নতুন বিল পেশ করতে চলেছে সরকার। প্রস্তাবিত এই বিল অনুযায়ী:

  • পঞ্চায়েত প্রধানদের হাত থেকে ‘সিগনেটরি অথরিটি’ বা নথিপত্রে সই করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।
  • প্রধানদের বদলে ফাইলে সই করা বা অনুমোদনের দায়িত্ব পাবেন সরকারি আধিকারিকরা।

দিলীপ ঘোষের কড়া হুঁশিয়ারি এদিন বিধানসভায় প্রধানদের অনুপস্থিতি নিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়কদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট বলেন, “পঞ্চায়েত প্রধান হলে মানুষকে পরিষেবা দিতে হবে। হয় এসে কাজ করুন, নয়তো পদত্যাগ করুন। যদি অফিসে না আসেন, তা হলে পুলিশ দিয়ে কোমরে দড়ি পরিয়ে এনে সই করাব।” দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে যে কোনওভাবেই বঞ্চিত করা যাবে না, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি।

কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত? রাজ্য সরকারের দাবি, বর্তমানে প্রায় দু’হাজার পঞ্চায়েত প্রধান ধারাবাহিক ভাবে দফতরে অনুপস্থিত। ফলে ফাইলে সই হচ্ছে না এবং আটকে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে গ্রামাঞ্চলে হওয়া দুর্নীতি ও কাটমানির প্রসঙ্গ টেনেও এদিন বিরোধীদের কড়া জবাব দেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী।

সাধারণ গ্রামবাসীদের ক্ষোভ প্রশমন এবং পঞ্চায়েতের কাজ স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতেই এই নতুন বিল গেমচেঞ্জার হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *