বিপত্তারিণী পুজো ২০২৬: জানুন ব্রত পালনের সঠিক তিথি, শুভ নির্ঘণ্ট ও নিয়মকানুন

বিপত্তারিণী পুজো ২০২৬: জানুন ব্রত পালনের সঠিক তিথি, শুভ নির্ঘণ্ট ও নিয়মকানুন

সনাতন ধর্মে আষাঢ় মাস মানেই মা বিপত্তারিণীর আবাহন। রথযাত্রা থেকে উল্টোরথের মাঝের সময়ে ঘরে ঘরে মহিলারা মেতে ওঠেন মায়ের বন্দনায়। দেবী দুর্গার ১০৮টি অবতারের অন্যতম এই সঙ্কটনাশিনী দেবীর আরাধনা করলে সংসারের সমস্ত কালো মেঘ ও আপদ-বিপদ কেটে যায় বলেই বিশ্বাস ভক্তদের।

তিথি ও শুভ নির্ঘণ্ট সাধারণত রথ ও উল্টোরথের মাঝের মঙ্গল ও শনিবার এই পুজো হয়। তবে অনেক পরিবারে রথের পরেও এই ব্রত পালন করা হয়। ২০২৬ সালে আষাঢ় মাসের শেষ পুজোটি পড়েছে ২১ জুলাই, মঙ্গলবার (৪ শ্রাবণ)

  • সপ্তমী তিথি: সকাল ৭টা ১৯ মিনিট ২৪ সেকেন্ড পর্যন্ত থাকবে আষাঢ় শুক্লপক্ষের সপ্তমী তিথি। এরপরই অষ্টমী শুরু।
  • পুজোর শুভ সময়: ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে পুজো সম্পন্ন করা সবচেয়ে শুভ। তিথি অনুযায়ী সকাল সকাল পুজোর তোড়জোড় শুরু করে দেওয়া ভালো।

পৌরাণিক কাহিনি পুরাণ মতে, একবার মহাদেব দেবী পার্বতীকে কৌতুক করে ‘কালী’ বলে উপহাস করেছিলেন। এতে ক্রুদ্ধ ও অভিমানী হয়ে দেবী পার্বতী কঠোর তপস্যা শুরু করেন। পুণ্যবলে তিনি নিজের কৃষ্ণবর্ণ রূপ ত্যাগ করেন। দেবীর সেই ত্যাজ্য রূপ থেকেই সৃষ্টি হয় দেবী বিপত্তারিণীর। তাই বিপত্তারিণী পুজো আসলে আদিশক্তি দুর্গারই আরাধনা।

পুজোর নিয়মকানুন ও সতর্কতা এই ব্রতের মূল উদ্দেশ্য হলো আত্মসংযম। সামান্য ভুলে গৃহশান্তি নষ্ট হতে পারে। তাই এই নিয়মগুলো অবশ্যই মাথায় রাখুন:

  • নিরামিষ আহার: পুজোর আগের দিন, পুজোর দিন এবং পরের দিন— মোট ৩ দিন সম্পূর্ণ নিরামিষ খেতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম তো বটেই, পেঁয়াজ বা রসুনও ছোঁয়া যাবে না।
  • কী খাবেন না: উচ্ছে, করলা, নিমপাতার মতো কোনো প্রকার তেতো খাবার খাওয়া এই তিনদিন সম্পূর্ণ বারণ।
  • কাটাকাটি ও সেলাই নিষেধ: পুজোর দিন ঘরে সুচ-সুতো দিয়ে সেলাই করা বা ছুরি-বঁটি দিয়ে ফল ও সবজি কাটা থেকে বিরত থাকুন।
  • ১৩-র মাহাত্ম্য: এই ব্রতে ১৩ সংখ্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হাতে ১৩টি গিঁট দেওয়া পবিত্র লাল তাগা বাঁধতে হয়।
  • মায়ের ভোগ: ঘট স্থাপন করে মায়ের সামনে ১৩ রকমের ফল, ১৩ রকমের ফুল, ১৩টি লুচি এবং ১৩ রকমের ভাজা নিবেদন করতে হয়।
  • প্রসাদ বিতরণ: পুজো শেষে ১৩টি দূর্বা ও ১৩টি পান-সুপারি হাতে নিয়ে ব্রতকথা পাঠ করুন। এরপর অন্তত ১৩ জন মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিলিয়ে দিন।

মা বিপত্তারিণী পরম দয়াময়ী। শুদ্ধ মন ও নিখাদ ভক্তি থাকলে অনিচ্ছাকৃত ভুলও মা নিজ গুণে ক্ষমা করে দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *