শিশুদের মুখের গ্রাস চুরি! পড়ুয়াদের দিয়ে চাল পাচার করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন কেরানি

শিশুদের মুখের গ্রাস চুরি! পড়ুয়াদের দিয়ে চাল পাচার করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন কেরানি

মিড ডে মিলের চাল পাচার করার অভিযোগ উঠল এক কেরানির বিরুদ্ধে। আর সেই অমানবিক কাজে ব্যবহার করা হল খোদ স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের! রাজস্থানের রাজসমন্দ জেলায় শিশুদের পুষ্টির জন্য বরাদ্দ চাল ব্যক্তিগত গাড়িতে তোলার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা দপ্তর।

কীভাবে ফাঁস হল কেলেঙ্কারি?

  • ঘটনার সূত্রপাত: অভিযোগ, ভার্জু বাই মান্ডোট গার্লস সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের এক কেরানি মহাত্মা গান্ধী ইংলিশ স্কুল চত্বর থেকে মিড ডে মিলের চালের বস্তা নিজের বোলেরো গাড়িতে তুলছিলেন।
  • হাতেনাতে ধরলেন গ্রামবাসীরা: ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে জোর করে ভারী বস্তা তোলানোর দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তাঁরা তৎক্ষণাৎ পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে শিক্ষা দপ্তরে অভিযোগ জানান।
  • প্রশাসনের পদক্ষেপ: খবর পেয়েই পঞ্চায়েত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জগদীশ চন্দ্র মেওয়াড়া ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তড়িঘড়ি গাড়িতে থাকা চালের বস্তাগুলো নামিয়ে স্কুলের স্টকে ফেরত পাঠানো হয় এবং রিপোর্ট তলব করা হয়।

সন্দেহের তির দুই অধ্যক্ষের দিকেও! তদন্তে নেমে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছেন আধিকারিকরা। ভার্জু বাই মান্ডোট গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ জানান, তাঁদের স্কুলে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর সামগ্রী মজুত রয়েছে এবং তাঁরা কোনো অতিরিক্ত চালের আবেদন করেননি। অন্যদিকে, মহাত্মা গান্ধী ইংলিশ স্কুলের অধ্যক্ষও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, অভিযুক্ত কেরানি এর আগেও স্কুল থেকে গম, চাল ও তেলের মতো সামগ্রী নিয়ে গেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এবার তদন্তকারীদের আতসকাচের তলায় রয়েছেন ওই দুই স্কুলের অধ্যক্ষও।

ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা কোমলমতি পড়ুয়াদের দিয়ে ভারী বস্তা বহন করানো এবং দিনের আলোয় সরকারি রেশন ব্যক্তিগত গাড়িতে পাচারের এই ঘটনায় শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বিরাট প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় মিড ডে মিল নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি চলছে। গোটা ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *