‘দল ছিনিয়ে নিলে সুপ্রিম কোর্ট অবধি যাব!’ একুশের মঞ্চে ৯৭-এর স্মৃতি উসকে জোড়াফুল বাঁচানোর হুংকার মমতার
July 21, 20267:11 pm

দলের অন্দরের তীব্র কোন্দল এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের জল্পনার মাঝেই একেবারে পুরনো ‘ফায়ারব্র্যান্ড’ মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে আয়োজিত কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে বিদ্রোহী নেতাদের তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। কর্মীদের উজ্জীবিত করতে হাতিয়ার করলেন সেই ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক ‘ইন্ডোর-আউটডোর’ রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্মৃতিকে।
মমতার ভাষণের মূল হাইলাইটস:
- ‘নেতারা গেছে, কর্মীরা যায়নি’: মঞ্চের সামনে উপচে পড়া ভিড় দেখে আপ্লুত নেত্রী বলেন, “টাকা দিয়ে কাউকে আনতে হয়নি, সবাই প্রাণের টানে এসেছেন।” বিদ্রোহী নেতাদের ‘গদ্দার’ ও ‘চোর’ কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমাদের খেয়ে আজ বিজেপির রক্ষাকবচ পেয়েছে। পুলিশ ছাড়া পাড়ায় বেরোতে পারছে না। শুধু সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিলেই হয় না, ওটা আসলে বিজেপির সাইনবোর্ড। এবার একেবারে ব্যাট-বলের খেলা হবে!”
- ৯৭-এর সেই ‘ইন্ডোর-আউটডোর’ ফর্মুলা: তৃণমূলের জন্মলগ্নের স্মৃতি উসকে দেন মমতা। ১৯৯৭ সালের অগস্টে কংগ্রেসের প্লেনারি সেশন ছিল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে, যা কার্যত ফাঁকা ছিল। অন্যদিকে, মমতার ডাকে মেয়ো রোডের আউটডোর জনসভায় উপচে পড়েছিল মানুষের ঢল। এরপরই কংগ্রেস তাঁকে বহিষ্কার করে এবং ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই পুরনো হার না মানা লড়াইয়ের কথাই এদিন কর্মীদের স্মরণ করান তিনি।
- কড়া আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি: দল দখলের কোনো রকম চেষ্টা হলে কড়া আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আজ থেকে আমাদের নতুন পথচলা শুরু। আমরা নতুন কমিটি গড়ব। যাঁরা থাকতে চান না, ঘরে বসে যান। কেউ বেইমানি করে দল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমরাও ছেড়ে কথা বলব না, একেবারে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই করব।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঝাঁঝালো বার্তা থেকে স্পষ্ট, দলের উপর নিজের রাশ শক্ত রাখতে এবং নিচুতলার কর্মীদের মনোবল অটুট রাখতে তিনি একেবারে সম্মুখ সমরে নামতে প্রস্তুত।