রাহুল গান্ধীকে আটক নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক! স্পিকারের অনুমতি ছাড়া কি সাংসদকে ধরা যায়? জানুন আসল নিয়ম

রাহুল গান্ধীকে আটক নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক! স্পিকারের অনুমতি ছাড়া কি সাংসদকে ধরা যায়? জানুন আসল নিয়ম

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর সময় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক কংগ্রেস সাংসদকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের পাশাপাশি একটি বড় আইনি প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে— স্পিকারের আগাম অনুমতি ছাড়া কি পুলিশ কোনও সাংসদকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারে? সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আইনি বিশেষজ্ঞ আর কে সিং এই বিষয়ে আইনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

সাংসদদের গ্রেফতারি নিয়ে কী বলছে আইন?

  • আগাম অনুমতির প্রয়োজন নেই: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থাকলে বা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো উচ্চ-নিরাপত্তাবলয়ে বিনা অনুমতিতে বিক্ষোভ হলে পুলিশ যে কোনও সাংসদকে আটক করতে পারে। খুন, দাঙ্গা বা দুর্নীতির মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রেও স্পিকারের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হয় না।
  • স্পিকারকে জানানো বাধ্যতামূলক: আইন অনুযায়ী, পুলিশ সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারলেও, কোনও সাংসদকে গ্রেফতার বা আটক করার পর যত দ্রুত সম্ভব লোকসভার স্পিকারকে সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক।
  • দেওয়ানি বনাম ফৌজদারি মামলা: সংসদের অধিবেশন শুরুর ৪০ দিন আগে থেকে এবং শেষ হওয়ার ৪০ দিন পর পর্যন্ত শুধুমাত্র দেওয়ানি (Civil) মামলায় সাংসদরা গ্রেফতারি থেকে বিশেষ আইনি সুরক্ষা পেয়ে থাকেন। তবে ফৌজদারি (Criminal) মামলার ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনও সুরক্ষা প্রযোজ্য হয় না।
  • সংসদ ভবনের ভিতরের নিয়ম আলাদা: স্পিকারের পূর্বানুমতি ছাড়া সংসদ চত্বরের ভিতরে কোনও সাংসদকে গ্রেফতার করা যায় না। এমনকি, স্পিকারের অনুমতি ছাড়া সংসদ ভবনের ভিতরে কোনও সাংসদের হাতে আইনি নোটিশ বা সমনও ধরানো যায় না। তবে বিজয় চক বা লোক কল্যাণ মার্গের মতো সংসদের বাইরের এলাকায় সাধারণ আইনই কার্যকর হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *