ভরা মঞ্চে অরূপ-ঋতব্রতকে তোপ! বক্তব্য রেখেই কেন একুশের সভা ছাড়লেন ক্ষুব্ধ কল্যাণ?

একুশে জুলাইয়ের মহামঞ্চ মানেই রাজনৈতিক উত্তেজনা। তবে এবারের চিত্রটা ছিল একটু আলাদা। রাজনীতির চেনা ছকের বাইরে গিয়ে একুশের মঞ্চ সাক্ষী থাকল এক চরম নাটকীয় মুহূর্তের। সভা যখন মধ্যগগনে, ঠিক তখনই নিজের বক্তব্য শেষ করেই আচমকা মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়! আর তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
মঞ্চে ঠিক কী ঘটেছিল? এদিন চিরপরিচিত মেজাজেই ধরা দিয়েছিলেন কল্যাণ। কিন্তু তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতায় পরতে পরতে ছিল চমক:
- নিশানায় স্বদলের নেতারাই: বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরাসরি রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়কে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এমনকি ভরা মঞ্চে সকলের সামনে খোঁজ করেন সায়নী ঘোষের।
- নতুন শিবিরকে তোপ: সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যে নেতারা নতুন শিবিরের দিকে ঝুঁকেছেন, তাঁদেরও রেয়াত করেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ। বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নতুন তৃণমূল’ শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
সভা ছাড়ার নেপথ্যে আসল কারণ কী? বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মুহূর্তের জন্যও মঞ্চে আর অপেক্ষা করেননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যান সভাস্থল থেকে। আর এখান থেকেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন:
- তবে কি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনো বড়সড় মনমালিন্য বা মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে?
- নাকি দলের অন্দরের সমীকরণ বদলাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্ত?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে যে অন্তর্কলহ দানা বেঁধেছে, একুশের মঞ্চে কল্যাণের এই আচরণ তারই স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। দলের তরফ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে একুশের মেগা মঞ্চের এই ‘মহানাটক’ যে শাসকদলের অন্দরের অস্বস্তি অনেকটাই প্রকাশ্যে এনে দিল, তা বলাই বাহুল্য।