মার্চের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন! সরকারি কর্মীদের জন্য জোড়া সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

মার্চের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন! সরকারি কর্মীদের জন্য জোড়া সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিরাট সুখবর! চলতি অর্থবর্ষের শেষ অর্থাৎ আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই রাজ্যে চালু হতে চলেছে সপ্তম বেতন কমিশন। মঙ্গলবার সল্টলেকের বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে এই বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু বেতন কমিশনই নয়, কেন্দ্র ও রাজ্যের মহার্ঘ ভাতার (DA) ফারাক কমানো এবং বকেয়া মেটানো নিয়েও সরকারি কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা:

  • টার্গেট মার্চ মাস: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
  • কমিশন গঠন: ইতিমধ্যেই এই কমিশনের ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (Terms of Reference) তৈরির কাজ শেষ। এটি চূড়ান্ত হলেই খুব দ্রুত সরকারিভাবে কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে কী বার্তা দিলেন?

  • ফারাক মেটানোর আশ্বাস: বর্তমানে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র যে ফারাক রয়েছে, তা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে।
  • বকেয়া মেটানো হবে: সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা জল্পনা উড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা ভেবেছিলেন একলপ্তে ৪২ শতাংশ বা ১০ শতাংশ দেওয়া হবে। আমরা হিসেব করেই দিয়েছি, আগামী দিনে বাকিটাও মেকআপ করে দেওয়া হবে। সময়মতো সব বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে।”

অতীতের বঞ্চনার প্রসঙ্গ: বিদ্যুৎ ভবনের অনুষ্ঠান থেকে আগের সরকারের কড়া সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২০ সালে ষষ্ঠ পে কমিশন চালু হলেও মাঝপথে ডিএ আটকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি নিজে সেই আইনি লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন বলেও জানান। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেটেই বর্তমান সরকার এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের অতীতের ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি কর্মচারীদের মন জয় করতে মুখ্যমন্ত্রীর এই জোড়া পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *