হোটেলের বন্ধ ঘরে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ, নেপথ্যে কি ত্রিকোণ প্রেম? জালে লিভ-ইন পার্টনার

হোটেলের বন্ধ ঘরে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ, নেপথ্যে কি ত্রিকোণ প্রেম? জালে লিভ-ইন পার্টনার

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের একটি হোটেলে পাটুলির এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত রবিবার ঘটনাটি ঘটলেও মঙ্গলবার তা প্রকাশ্যে আসে। মৃতার নাম রিনা রাম (৩৮)। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে রিনার লিভ-ইন পার্টনার গৌরব শেঠ ওরফে রাহুলকে আটক করেছে পুলিশ। এটি খুন নাকি নিছকই আত্মহত্যা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।

কী ঘটেছিল ওই অভিশপ্ত রাতে?

  • সন্দেহজনক মৃত্যু: গত ১৭ জুলাই মধ্যমগ্রামের ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ হোটেলে ১০১ নম্বর ঘরটি ভাড়া নেন রিনা। পরের দিন সকালে দীর্ঘক্ষণ দরজা না খোলায় সন্দেহ হয় হোটেল কর্মীদের।
  • দেহ উদ্ধার: খবর পেয়ে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যান থেকে রিনার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

পারিবারিক অশান্তি ও প্রেমের সম্পর্ক

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, স্বামীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না হলেও রিনা তাঁর থেকে আলাদা থাকতেন। তাঁর এক বিবাহিত মেয়েও রয়েছে। এরই মধ্যে পাটুলিরই বাসিন্দা গৌরবের সঙ্গে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রিনা। পুলিশি জেরায় জানা গেছে, মাঝেমধ্যেই মধ্যমগ্রামের ওই হোটেলে ঘর ভাড়া নিতেন রিনা এবং গৌরব সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন।

পরিবারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

মৃতার পরিবারের দাবি, এই ঘটনার কিছুদিন আগেই রিনা ও গৌরবের মধ্যে কোনো এক বিষয় নিয়ে তীব্র বচসা হয়েছিল। পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, এই মৃত্যুর নেপথ্যে গৌরবের হাত রয়েছে। তাঁদের এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ওই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনাটি আত্মহত্যার রূপ দেওয়া কোনো পরিকল্পিত খুন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সত্য সামনে আনতে ইতিমধ্যেই হোটেলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ, দুজনের কল রেকর্ড (CDR) এবং ফরেন্সিক নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *