‘আরে থামো!’ ভরা মঞ্চে মমতার ধমক, ‘পাবলিকলি অপমান করছেন’ বলে সভা ছাড়লেন ক্ষুব্ধ কল্যাণ

‘আরে থামো!’ ভরা মঞ্চে মমতার ধমক, ‘পাবলিকলি অপমান করছেন’ বলে সভা ছাড়লেন ক্ষুব্ধ কল্যাণ

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে নজিরবিহীন সংঘাত! মঙ্গলবার ক্যাথিড্র্যাল রোডে তৃণমূলের (কালীঘাট শিবির) একুশের মঞ্চে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে প্রকাশ্যেই তীব্র বাদানুবাদ ঘিরে তুমুল জল্পনা তৈরি হয়েছে। খোদ নেত্রীর ধমকে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঝপথেই ভাষণ থামিয়ে মঞ্চ ছাড়েন শ্রীরামপুরের সাংসদ।

ঠিক কী ঘটেছিল একুশের মঞ্চে?

  • মমতার ধমক: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক সেই সময়ই মঞ্চে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রীকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগানও দেন কল্যাণ। কিন্তু ভাষণ দীর্ঘ হওয়ায় মমতা তাঁকে তা সংক্ষিপ্ত করার বার্তা দেন। সভার লাইভ স্ট্রিমিংয়ে মমতাকে স্পষ্ট বলতে শোনা যায়, “আরে থামো!”
  • কল্যাণের বিস্ফোরণ: দলনেত্রীর এই কথাতেই মেজাজ হারান তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান আইনজীবী-সাংসদ। দ্রুত ভাষণ গুটিয়ে তিনি মমতার উদ্দেশে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আপনি দেখুন না, কতক্ষণ বলেছি? আপনি এমন করেন না…!” এরপরই অভিমানী সুরে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আপনার জন্য জান দিয়েছি। আপনার কোনও এমপি, এমএলএ, কর্মী জেলায় জেলায় ঘুরছে না। আমি ঘুরছি, সব বাড়িতে বসে আছে। আর আপনি পাবলিকলি আমাকে অপমান করছেন!”
  • মঞ্চ ছাড়লেন সাংসদ: পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন আসরে নামেন। তাঁরা কল্যাণকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে মঞ্চ ছেড়ে নেমে যান তিনি। এরপর আর তিনি মঞ্চে ফেরেননি।

ক্ষোভের নেপথ্য কারণ:

মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের একাংশের মতে, কল্যাণের বক্তব্যের মাঝেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে এলে তাঁকে ঘিরে কর্মীদের স্লোগান ওঠে। ফলে তখনই একবার বক্তব্য থামাতে বাধ্য হয়েছিলেন কল্যাণ। এরপর মমতা সভাস্থলে পৌঁছনোর পরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এবং সবশেষে দলনেত্রীর প্রকাশ্য ধমক— সব মিলিয়েই চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ হন তিনি।

যদিও দলের অন্দরের এই অপ্রত্যাশিত বিতর্ক নিয়ে মমতা বা কল্যাণ, প্রকাশ্যে কেউই এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *