অভিষেকের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে কি কোণঠাসা কল্যাণ? কুণালের পাশে দাঁড়িয়েও নীরব মমতা!

কলকাতা, ২৩ জুলাই ২০২৬: লোকসভা ও বিধানসভা—দুই জায়গাতেই সাসপেন্ড হলেন তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতা কুণাল ঘোষ ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, কুণাল ঘোষের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট করলেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা স্পষ্টতই এক যাত্রায় পৃথক ফলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার রাজ্য বিধানসভায় বক্তা তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদ করায় স্পিকারের নির্দেশে একদিনের জন্য সাসপেন্ড হন বিধানসভার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, কুণালের কণ্ঠরোধ করতেই সরকারপক্ষ এবং বিজেপি যৌথভাবে এই চক্রান্ত করেছে। বিধানসভার মধ্যে বিধায়কের ওপর এই দমনপীড়ন গণতন্ত্রের অবক্ষয় বলে তোপ দাগেন তিনি।
অন্যদিকে, একই দিনে লোকসভার বাদল অধিবেশন থেকে পুরো অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড হন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের বিদ্রোহী এক মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক গুরুত্বের বিচারে কল্যাণের এই সাসপেনশন অনেক বড় হলেও, তাঁর পক্ষে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি শব্দও খরচ করেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে প্রকাশ্য বাদানুবাদের পর থেকেই কি তবে কল্যাণের ওপর অসন্তুষ্ট দলনেত্রী? বিশেষ করে, কুণাল ঘোষের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা যেভাবে বার্তা দিলেন, তাতে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চের ঘটনার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের দূরত্ব যে আরও বাড়ল, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।