ভুয়া খবরের জেরে তোলপাড়! যন্তর মন্তরের মামলা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তীব্র ভর্ৎসনা প্রধান বিচারপতির

ভুয়া খবরের জেরে তোলপাড়! যন্তর মন্তরের মামলা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তীব্র ভর্ৎসনা প্রধান বিচারপতির

রাজধানীর যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। এর মধ্যেই এই সংক্রান্ত জরুরি শুনানির আবেদন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে—এমন খবর গত দু’দিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জোরেশোরে প্রচার করা হচ্ছিল। তবে এই বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য নিয়ে চূড়ান্ত অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এই বিষয়ে শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রিতে আদতে একটি পাতাও জমা পড়েনি! ফলে যেখানে কোনো মামলা বা পিটিশনই ফাইল করা হয়নি, সেখানে আদালত তা খারিজ করল কী করে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

প্রধান বিচারপতির ক্ষোভ ও বিস্ফোরক মন্তব্য: শুক্রবার অন্য একটি মামলার শুনানিকালে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি জানান, গত দু’দিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে যে মামলা দায়ের করা হলেও প্রধান বিচারপতি তা শুনতে রাজি হননি। অথচ আদালতের রেজিস্ট্রি নিজে খতিয়ে দেখে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, দপ্তরে এই সংক্রান্ত কোনো আবেদন বা পিটিশন জমা পড়েনি। আদালতের কাছে কেবল একটি সাধারণ চিঠি বা রিপ্রেজেন্টেশন পাঠানো হয়েছিল, যা রাতারাতি রিট পিটিশনে পরিণত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্র মৌখিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপের আর্জি জানালে আদালত জানিয়েছিল যে এভাবে ভিডিও দেখার সময় নেই।

দিল্লি হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ ও সোনমের অনশন প্রত্যাহার: এদিকে সুপ্রিম কোর্টে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও, দিল্লি হাইকোর্ট এই ঘটনায় কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে কঠোর নোটিস পাঠিয়েছে। গত ২০ জুলাইয়ের ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওগ্রাফি ও পুলিশি নথি সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যন্তর মন্তর আন্দোলন ঘিরে শুক্রবার বড় মোড় এসেছে। টানা ২৬ দিন অনশন চালিয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের লিখিত আশ্বাসের ভিত্তিতে অবশেষে নিজের অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনকারীদের পূর্ণ আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো আইনি পদক্ষেপ করবে না এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে সিজেপির প্রতিনিধিদের বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সোনম ওয়াংচুক অনশন তুললেও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তাঁদের রাজপথের লড়াই থামবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *