পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইনে বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য! প্রধান ও উপপ্রধান না থাকলে গ্রাম পঞ্চায়েত চালাবেন কে?

পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইনে বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য! প্রধান ও উপপ্রধান না থাকলে গ্রাম পঞ্চায়েত চালাবেন কে?

গ্রামীণ প্রশাসনের পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে এবং জনপরিষেবা নির্বিঘ্ন রাখতে পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩-এ বড়সড় সংশোধনী আনল রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এই বিষয়ে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পঞ্চায়েত (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। গত ২৩ জুলাই প্রকাশিত এই নতুন বিলে পঞ্চায়েত পরিচালনা, প্রশাসনিক স্থায়িত্ব এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রশাসক নিয়োগ ও অনুপস্থিতি সংক্রান্ত নতুন নিয়ম:

নতুন বিলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোনো গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধান একটানা ১৫ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকেন এবং নির্বাচিত সদস্যরা সেই দায়িত্ব নিতে রাজি না হন, তবে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ একজন এক্সটেনশন অফিসার বা তার চেয়েও উচ্চপদস্থ কোনো আধিকারিককে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য ‘প্রশাসক’ (Administrator) হিসেবে নিয়োগ করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের সমস্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসকের হাতেই থাকবে।

এছাড়াও, প্রধান ও উপপ্রধানের অনুপস্থিতির কারণে যদি টানা দুই মাস কোনো পঞ্চায়েত বৈঠক না হয়, তবে বিডিও-র বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে পঞ্চায়েতের সচিব নিজে বৈঠক ডাকতে পারবেন। ওই বৈঠকে এক্সটেনশন অফিসার এবং এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবেন। পাশাপাশি, গ্রাম সভার সভাপতিত্বের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে—প্রধান, উপপ্রধান বা কোনো প্রতিনিধি না থাকলে নিযুক্ত প্রশাসক উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে থেকে জ্যেষ্ঠতম সদস্যকে সভা পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পারবেন।

আর্থিক লেনদেনে কড়াকড়ি ও স্বচ্ছতা:

গ্রাম পঞ্চায়েতের তহবিল তছরুপ বা দুর্নীতি রোধ করতে আর্থিক বিষয়ে বিশেষ কড়াকড়ি আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী—

  • পঞ্চায়েত তহবিল থেকে কোনো অর্থ খরচের আদেশে এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের স্বাক্ষর আবশ্যিক করা হয়েছে।
  • চেকের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং সচিবকে যৌথভাবে স্বাক্ষর করতে হবে।
  • প্রতি মাসের আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব প্রধানের পাশাপাশি বিডিও-র কাছে জমা দেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্বও এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের ওপর রাখা হয়েছে।

বিলের মূল লক্ষ্য:

সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সাধারণ মানুষকে নিয়মিত ও স্বচ্ছ পরিষেবা প্রদান করা, নির্দিষ্ট সময়ে পঞ্চায়েত ও গ্রাম সভার বৈঠক নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিকভাবে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কর্মক্ষমতা ও গতিশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলাটাই এই নতুন সংশোধনী আনার মূল উদ্দেশ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *