নিজেকে তরুণ রাখতে ল্যাবে নিজস্ব ‘বেবি ক্লোন’! চাঞ্চল্যকর দাবি মার্কিন বিলিয়নেয়ারের

বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চিরতরে তরুণ থাকার পাগলাটে শখ মার্কিন প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার ব্রায়ান জনসনের। এবার তিনি এমন এক চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন যা নিয়ে গোটা বিশ্বে শোরগোল পড়ে গেছে। তাঁর দাবি, বার্ধক্যকে পরাস্ত করতে তিনি ল্যাবরেটরিতে নিজেরই একটি ‘বেবি ক্লোন’ তৈরি করেছেন! সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছেন যে, এই ক্ষুদ্র ক্লোনটি বর্তমানে একটি পেট্রি ডিশের মধ্যে নিরাপদে বেড়ে উঠছে।
পেট্রি ডিশে ভ্রূণ ও আসল রহস্য: ব্রায়ানের দাবি অনুযায়ী, নিজের শরীর থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে রক্তকণিকা সংগ্রহ করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটিকে ভ্রূণীয় অবস্থায় রূপ দিয়েছেন তিনি। এই ক্লোনের সাহায্যে তিনি ভবিষ্যতে নতুন অঙ্গ তৈরি, ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং শরীরে তরুণ কোষ প্রবেশ করানোর পরিকল্পনা করেছেন। সম্প্রতি তাঁর শরীরে ‘অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস’ নামক একটি বিরল রোগ ধরা পড়েছে, যার স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই। ব্রায়ানের বিশ্বাস, এই অভিনব পরীক্ষা তাঁর রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি বার্ধক্যকে রুখে দিতে সাহায্য করবে।
চিকিৎসা বিপ্লব নাকি নিছক প্রচারের চটক? দীর্ঘায়ু পেতে ব্রায়ান প্রতি বছর প্রায় ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার খরচ করেন। তাঁর এই নতুন দাবিকে ঘিরে চিকিৎসকমহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভক্তরা একে যুগান্তকারী সাফল্য বললেও, সমালোচকরা একে বৈজ্ঞানিক বাড়াবাড়ি এবং প্রচারের কৌশল বলেই মনে করছেন।
মানব ক্লোনিংয়ের বাস্তবতা ও আইন: ইতিহাস ঘাঁটলে ২০০২ সালে ক্লোন শিশু তৈরির মিথ্যা দাবির নজির মিললেও, বৈজ্ঞানিক ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো জীবিত মানুষের ক্লোনিং সফল হয়নি। মানুষের মৌলিক মর্যাদা লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কায় জাতিসংঘ এবং ফ্রান্স, জার্মানি সহ ৩০টির বেশি দেশে মানুষের ক্লোনিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যুক্তরাজ্য বা জাপানের মতো কিছু দেশে নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত কড়া নিয়মে শুধুমাত্র ‘চিকিৎসামূলক ক্লোনিং’ (Therapeutic Cloning)-এর অনুমতি থাকলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানব ক্লোনিং এখনও আইনগত এবং বৈজ্ঞানিক দিক থেকে অত্যন্ত বিতর্কিত ও নিষিদ্ধ এক অধ্যায়।