ধর্মেন্দ্র প্রধানের জায়গায় এলেন প্রহ্লাদ যোশী! কতদূর পড়াশোনা করেছেন দেশের নতুন শিক্ষামন্ত্রী?

শনিবার রাতে দেশের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন প্রহ্লাদ যোশী। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর এবার এই গুরুদায়িত্ব এসে পড়ল তাঁর কাঁধে। এর আগে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রক, কয়লা মন্ত্রক এবং খনি মন্ত্রক সফলভাবে সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তবে শিক্ষা মন্ত্রকের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল দপ্তরে তাঁর এই পদায়ন বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রারম্ভিক জীবন
সংসদীয় প্রোফাইল অনুযায়ী, প্রহ্লাদ যোশীর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল রেলওয়ে স্কুলে। এরপর হুব্বালিতে স্কুলশিক্ষা শেষ করে তিনি ধারওয়াড়ের কর্ণাটক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কদাসিদ্ধেশ্বর আর্টস কলেজ থেকে ব্যাচেলর অফ আর্টস (বি.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে তাঁর গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন হয়। উত্তর কর্ণাটকের অন্যতম নামী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সময়ই তাঁর মধ্যে জনসেবা ও সমাজ উন্নয়ন নিয়ে গভীর আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ব্যবসা ও সমাজসেবামূলক নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৪ সালে প্রথম কর্নাটকের ধারওয়াড় লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন এবং তারপর থেকে টানা পাঁচবার একই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে আসছেন।
সামনে রয়েছে একরাশ চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলালেও শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব তাঁর কাছে সম্পূর্ণ নতুন। বর্তমানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র বেশ উত্তাল। একদিকে এনইপি (NEP) বাস্তবায়ন, উচ্চশিক্ষায় সংস্কার, প্রবেশিকা পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরানো এবং এনটিএ (NTA)-কে শক্তিশালী করার মতো দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে দেশজুড়ে নিট আন্দোলন ও শিক্ষাব্যবস্থার অরাজকতার মতো কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে তাঁকে।
কেন এই পরিবর্তন?
উল্লেখ্য, দেশজুড়ে তীব্র নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে গত কয়েকদিন ধরেই চরম আন্দোলন চালাচ্ছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। আন্দোলনকারীদের মূল দাবিই ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। শেষ পর্যন্ত তীব্র চাপের মুখে শনিবার সকালেই পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রহ্লাদ যোশীর নাম ঘোষণা করে কেন্দ্র।