সম্পর্কে না নাম দিয়েও অন্য কাউকে কাছে ঘেঁষতে দিচ্ছে না? আপনি ‘সিগালিং’-এর মারাত্মক ফাঁদে পড়েননি তো?

সম্পর্কে না নাম দিয়েও অন্য কাউকে কাছে ঘেঁষতে দিচ্ছে না? আপনি ‘সিগালিং’-এর মারাত্মক ফাঁদে পড়েননি তো?

প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে আছেন, অথচ মনে হচ্ছে কোনো উষ্ণতা বা ভবিষ্যৎ নেই? কাউকে প্রচণ্ড পছন্দ করলেও তিনি কি আপনাকে শুধু ঝুলিয়েই রেখেছেন? না দিচ্ছেন কোনো সম্পর্কের স্বীকৃতি, না দিচ্ছেন অন্য কারও সঙ্গে নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ? সাবধান! ভালোবাসার মোড়কে আপনি হয়তো এক ভয়ানক মানসিক খেলার শিকার হচ্ছেন। বর্তমান ডেটিং ট্রেন্ডে এই বিষাক্ত খেলার নামই হলো ‘সিগালিং’।

‘সিগালিং’ বিষয়টি আসলে কী?

ডেটিং মার্কেটে রেড ফ্ল্যাগের কমতি নেই, তবে এর মধ্যে সবচেয়ে অদ্ভুত ক্যাটাগরি হলো এই ‘সিগাল’ (Seagulling) স্বভাবের মানুষগুলো। সাগরের সিগাল পাখি যেমন নিজে খাবার খেতে না পারলেও অন্য পাখিকে তা ছুঁতে দেয় না, এদের আচরণও ঠিক তেমনই। এদের কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে না, নিজে সম্পর্কের দায়িত্বও নেবে না— অথচ আপনাকে অন্য কারও হতেও দেবে না। সহজ কথায়, এরা আপনাকে ভালোবাসবে না ঠিকই, কিন্তু নিজের স্বার্থে আপনার আবেগ আর সময় দুটোই নষ্ট করে যাবে।

সঙ্গী কেন এমন স্বার্থপর আচরণ করেন?

সিগাল প্রেমিক বা প্রেমিকারা মূলত অন্ধ অহংকার বা ইগো নিয়ে চলেন। আপনি তাঁদের পছন্দ করছেন, তাঁদের সঙ্গ উপভোগ করছেন এবং অনবরত গুরুত্ব দিচ্ছেন— এই ব্যাপারগুলো তাঁরা হারাতে চান না। আবার লোকসমাজে বা নিজেদের ইগোর খাতিরে তাঁরা আপনাকে পুরোপুরি গ্রহণও করেন না। অনেকের কাছে এটি একটি নিখাদ ‘পাওয়ার প্লে’, যেখানে আপনাকে হাতের মুঠোয় রেখে আত্মতুষ্টি লাভ করা হয়। এমনকি আপনি সব বুঝে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার বা মুভ অন করার চেষ্টা করলেও, এরা ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াবে যাতে আপনি ফের তাদের কাছে ফিরে আসেন।

এই ফাঁদে পা দেওয়ার পরিণতি কী?

এই ধরণের সম্পর্কে আটকে থাকা মানে নিজের মূল্যবান সময় ও আবেগকে নষ্ট করা। এতে মানসিক শান্তি তো বটেই, পাশাপাশি জীবনে সঠিক মানুষকে খুঁজে পাওয়ার সুযোগটাও চিরতরে হাতছাড়া হয়ে যায়। তবে যারা এভাবে অন্যকে ঝুলিয়ে রাখছেন, তাঁরাও নিজেদের জীবনকে এক জায়গায় থামিয়ে রেখে মস্ত বড় বোকামি করছেন।

এই ফাঁদ থেকে মুক্তি মিলবে কীভাবে?

  • মনের নিয়ন্ত্রণ নিন: সবার আগে নিজের মনের ওপর নিজের দখল আনুন। এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে যে তীব্র মানসিক কষ্ট হবে, তা মেনে নিতে হবে।
  • সীমানা নির্ধারণ করুন: নিজের চারপাশে স্পষ্ট বাউন্ডারি তৈরি করুন। সঙ্গীর কাছে সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট জবাব চান।
  • দূরত্ব বজায় রাখুন: যদি কোনো স্পষ্ট উত্তর না মেলে, তবে মুভ অন করাই একমাত্র পথ। যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করুন— দেখা করা, চ্যাট বা টেক্সট করা থেকে দূরে থাকুন এবং ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তাঁর সমস্ত অস্তিত্ব মুছে ফেলুন। যতদিন না মন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসছে, আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে নিজেকে সামলে রাখুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *