নিট আন্দোলন ও জেন-জি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ: কতদূর এগোবে এই প্রতিবাদ?

নিট আন্দোলন ও জেন-জি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ: কতদূর এগোবে এই প্রতিবাদ?

মাস দুই আগে দিল্লিতে নিট-কেলেঙ্কারি নিয়ে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলন অবশেষে সফল হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার মধ্য দিয়ে মোদী সরকার শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলনের কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়েছে। আন্দোলনকারীদের মুখ অভিজিৎ দিপকের কথায়, “ওরা বলত, এই সরকার ইস্তফা দেয় না। কিন্তু আমরা প্রমাণ করে দিলাম—ঝুঁকতি হ্যায় দুনিয়া, ঝুঁকানেওয়ালা চাহিয়ে।”

মোদী সরকারের দম্ভ চূর্ণ ও রাজনৈতিক বার্তা

দিপকের এই মন্তব্য কেবল বর্তমান সরকারের অহংকারকেই কটাক্ষ করে না, বরং সব রাজনৈতিক দলের জন্যই এক বড় বার্তা। অতীতে মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবির মুখে এনডিএ নেতৃত্ব জানিয়েছিল যে তাঁদের মন্ত্রীরা নৈতিক দায়ে পদত্যাগ করেন না, প্রয়োজন হলে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গত ১২ বছরে বহু মন্ত্রীকে বাদ দিলেও নৈতিক কারণে ইস্তফার ঘটনা ছিল ব্যতিক্রমী। শেষ পর্যন্ত ছাত্র-আন্দোলোনের প্রবল চাপের মুখেই শিক্ষামন্ত্রীকে সরাতে বাধ্য হলেন প্রধানমন্ত্রী।

কোচিং-সংস্কৃতি ও মোদী-প্রজন্মের আন্দোলন

দিল্লির এই আন্দোলন সফল হওয়ার পেছনে সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং জেন-জি বা বেকার প্রজন্মের সীমাহীন ক্ষোভ বড় ভূমিকা পালন করেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, নিট বা এই জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিপুল অর্থ খরচ করে কোচিং নেওয়া এই মধ্য ও উচ্চবিত্ত পরীক্ষার্থীরা মূলত ‘মোদী-প্রজন্ম’ বা বিজেপিরই সমর্থক। ফলে কৃষকদের মতো এই ছাত্র আন্দোলন সরকারের কাছে অনেক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন এবং ২০২৯-এর লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে পরিস্থিতি সামাল দিতেই তাই কেন্দ্র দ্রুত পদক্ষেপ করেছে।

আন্দোলনের আসল শিক্ষা ও বড় প্রশ্ন

ফেসবুকের গণ্ডি পেরিয়ে মাঠে-ময়দানে ঘাম ঝরানো আন্দোলনই যে সরকারকে শঙ্কিত করতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তবে আসল প্রশ্ন হলো— নিট বা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কি দেশের একমাত্র সমস্যা? সংবিধান বদলের চেষ্টা, রাজনীতিকে নীতিহীন করে তোলার প্রবণতা এবং দেশের মৌলিক চরিত্র বদলে ফেলার মতো বড় বিষয়গুলি নিয়ে এই নতুন প্রজন্ম কতটা সচেতন?

প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ বা নেপালের জেন-জি আন্দোলনের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর হয়নি। ভারতের জেন-জি বা ‘আরশোলা প্রজন্ম’ যদি কেবল নিজেদের দাবি মিটতেই স্বার্থপরের মতো থেমে যায়, তবে তা দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে। কারণ, এই আন্দোলনে আট থেকে আশি—সকল সাধারণ মানুষ, প্রান্তিক কৃষক ও সংখ্যালঘুরা সমর্থন জুগিয়েছেন। তাই বৃহত্তর জনস্বার্থ ও দেশের মৌলিক সংকটগুলি নিয়ে এই জেন-জি প্রজন্ম আগামী দিনে কী ভূমিকা নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *