মিম-রিলই এখন প্রতিবাদের হাতিয়ার! ভারতের জেন-জি ম্যাজিকে বুঁদ শ্রীলঙ্কা থেকে পাকিস্তানও

জেন-জি (Gen Z) মানেই সারাদিন ফোনে মুখ গুঁজে থাকা, রিলস স্ক্রল করা আর সব কিছু নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করে মিম বানানো! এই বদনাম তো তাদের হামেশাই শুনতে হয়। কিন্তু গত এক মাসে ভারতের জেন-জিরাই প্রমাণ করে দিল, তাদের এই তথাকথিত ‘খামতিগুলোই’ আসলে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে তাদের টানা আন্দোলনের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শেষমেশ পদত্যাগ করতে হয়েছে। এই বিক্ষোভে কোনো লম্বা রাজনৈতিক ইস্তেহার ছিল না; তার জায়গা নিয়েছিল বুদ্ধিদীপ্ত মিম। রিলস হয়ে উঠেছিল লোক জড়ো করার অস্ত্র, আর শর্ট ভিডিওগুলো হয়ে উঠেছিল পুলিশের বাড়াবাড়ির অকাট্য প্রমাণ। তরুণ প্রজন্মের এই অদম্য জেদ শুধু ভারতেই নয়, কাঁটাতার পেরিয়ে মুগ্ধ করেছে শ্রীলঙ্কা, নেপাল এমনকি পাকিস্তানকেও।
শ্রীলঙ্কা ও নেপালের সেলাম
শ্রীলঙ্কার তরুণরা ২০২২ সালের চরম আর্থিক সংকটের সময় ঠিক এভাবেই পথে নেমে রাজাপক্ষে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। তাই ভারতের এই অভিনব আন্দোলন তাদের পুরনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন পুলিশি ব্যারিকেড আর তা আটকাতে চলা প্রতিবাদ নিয়ে মজার সব কার্টুন ভাইরাল।
তবে সব ছাপিয়ে গেছে মুম্বইয়ের এক তরুণী রিয়া আহিরের একটি ছবি। পুলিশের ভ্যানের সামনে এক হাতে পথ আটকে দাঁড়ানো রিয়ার সেই ছবিকে অনেকেই চিনের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের বিখ্যাত ‘ট্যাংক ম্যান’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। নেপালের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অবিনাশ মিশ্রও ভারতের তরুণদের সমর্থন করে জানিয়েছেন, এই ক্ষোভ পুরোপুরি ন্যায্য এবং লক্ষ্য থেকে যেন কেউ নজর না সরায়।
পাকিস্তানের আক্ষেপ ও মুগ্ধতা
সবচেয়ে অবাক করা প্রতিক্রিয়া এসেছে পাকিস্তান থেকে। দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতা যতই থাকুক, পাকিস্তানের তরুণরা ভারতের জেন-জি-র সাহসে রীতিমতো মুগ্ধ। এক পাকিস্তানি তরুণী উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছেন, এত ভালো কাজ করলে তাঁরা ঘৃণা করবেন কী করে!
পাকিস্তানের তরুণরা ভারতের পড়ুয়াদের ঐক্য দেখেও বেশ অবাক। তাঁদের মতে, ভারতের ছেলেমেয়েরা যেভাবে ধর্ম-জাতের গণ্ডি পেরিয়ে একজোট হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। মুম্বইয়ে পুলিশ ভ্যানে আটক বন্ধুদের বাঁচাতে এক যুবকের অবলীলায় ভ্যানের ছিটকিনি খুলে দেওয়ার ভাইরাল ভিডিও দেখে পাকিস্তানের জেন-জি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এদের কোনো তুলনাই হয় না।
এই আন্দোলন কি পাকিস্তানের টাকায় হচ্ছে?— এমন সব ভিত্তিহীন গুজবের কড়া জবাব দিয়ে পাকিস্তানি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বিলাল হাসান চরম ব্যঙ্গ করে জানান, নিজেদের দেশ চালানোরই যেখানে সংকট, সেখানে ফান্ডিং করার প্রশ্নই ওঠে না। বরং পাকিস্তানে এমন আন্দোলন হলে পুলিশ ছাত্রদের সোজা গুম করে দেয় বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
বেলালের একটি কথায় হয়তো পুরো পরিস্থিতি পরিষ্কার হয়ে যায়। তিনি বলেন, তাঁরা একে অপরের কষ্টটা বোঝেন, কারণ দিনশেষে সবাই তো সেই দেশভাগের সন্তান। এতদিন যারা জেন-জি-র মিম আর ভিডিও দেখে হাসাহাসি করত, আজ তারাই দেখছে কীভাবে এই প্রজন্ম হাসতে হাসতে একটা গোটা সিস্টেমকে নাড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্ব এখন আর তাদের নিয়ে উপহাস করছে না, বরং ভারতের তরুণদের থেকেই প্রতিবাদের নতুন ভাষা শিখছে।