ধর্মতলায় পুলিশ-সাংবাদিক নিগ্রহ কাণ্ড! ধৃতদের মধ্যে ৪ জন ‘জাত অপরাধী’, ১৪ জনের পুলিশ হেফাজত

ধর্মতলায় ককরোচ পার্টির সমর্থনমূলক মিছিলকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন অশান্তি এবং পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর নিগ্রহের ঘটনায় ধৃতদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। রবিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতের বিচারক ধৃত ১৪ জনকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এদিনের শুনানিতে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চলে, যেখান থেকে উঠে আসে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ সরকারি আইনজীবীর
শুনানি চলাকালীন সরকারি আইনজীবী আদালতে তথ্যপ্রমাণ পেশ করে জানান, ধৃত ১৪ জনের মধ্যে অন্তত চারজন ‘জাত অপরাধী’ বা ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’ হিসেবে আগে থেকেই চিহ্নিত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলার চার্জশিট রয়েছে।
- অভিযুক্ত ইরফান খুরশেদের নামে রয়েছে ৮টি চার্জশিট।
- ইমরান আহমেদের বিরুদ্ধে রয়েছে ৪টি চার্জশিট।
- এছাড়া আরশাদ আলি এবং জামির আহমেদ— উভয়ের নামেই ২টি করে চার্জশিট ঝুলছে।
সরকারি আইনজীবীর দাবি, এই ব্যক্তিরাই যে কোনো অশান্তিতে উসকানিদাতা বা মদতদাতা। তাই ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে এদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জেরা করা অত্যন্ত জরুরি। সমস্ত দিক বিবেচনা করে বিচারক ২ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেন।
শুক্রবার ঠিক কী ঘটেছিল ধর্মতলায়?
গত শুক্রবার ধর্মতলার ছাত্র-যুবদের আয়োজিত ওই মিছিলের শেষে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে কলকাতার রাজপথ। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হন সাংবাদিকরা। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল, পাথর ও লাঠি ছোড়ারও গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার পর শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সরাসরি দোষীদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ওই বার্তার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। রাতারাতি তল্লাশি চালিয়ে অশান্তির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রবিবার তাদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়।
ধৃতদের পক্ষে আইনজীবীর জোরালো সওয়াল
অন্যদিকে, ধৃতদের পক্ষে দাঁড়ানো আইনজীবী জামিনের আবেদন জানিয়ে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি আদালতকে জানান, “যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা কেউ দেশদ্রোহী বা সন্ত্রাসবাদী নন। দেশজুড়ে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস নিয়ে আন্দোলন চলছে, তারই অংশ হিসেবে কলকাতায় এই কর্মসূচি ছিল। এটা শুধুই ছাত্র আন্দোলন ছিল না, এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনেক সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকও যোগ দিয়েছিলেন। মিছিলের অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল, নইলে তাঁরা ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত আসতেন না।”
তবে এই যুক্তির বিরোধিতা করে সরকারি আইনজীবী জানান, অভিযুক্তরা পুলিশের কাছে কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। পুলিশ তাঁদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে তাঁরা উল্টে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ও জলের বোতল ছুড়তে শুরু করেন এবং সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হন। উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পরেই বিচারক ধৃতদের ২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।