‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে লাঠিচার্জ বরদাস্ত নয়!’ প্রশ্নফাঁস বিক্ষোভ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুশিয়ারি

দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে প্রতিবাদের অধিকার দেশের সংবিধানে সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত। শুধুমাত্র বিক্ষোভ হচ্ছে এই অজুহাতে পুলিশ লাঠিচার্জের মতো চরম পদক্ষেপকে বৈধতা দিতে পারে না।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা-র সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ এই সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি চলাকালীন এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্যসমূহ:
- সাংবিধানিক সুরক্ষা: আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যতদিন আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ থাকবে, ততদিন পুলিশের তরফ থেকে কোনো অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা বাড়াবাড়ি বরদাস্ত করা হবে না।
- স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ: যদি কোনো ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
- অভিন্ন পুলিশি প্রোটোকল: দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ সামলানোর ক্ষেত্রে পুলিশি কার্যপ্রণালী ও প্রোটোকলে সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- উভয় পক্ষের সুরক্ষাই গুরুত্বপূর্ণ: শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী উল্লেখ করেন যে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থী কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশকর্মী—উভয়েরই আঘাত পাওয়া সমানভাবে উদ্বেগের বিষয়। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পুলিশকে পর্যাপ্ত ও আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেন দেওয়া হয় না?
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত ২০ জুলাই রাজধানী দিল্লিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত ‘সংসদ চলো’ মিছিলকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। সংসদের দিকে অগ্রসর হতে চাওয়া জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এই ঘটনার পরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একাধিক আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী কাল সমস্ত আবেদন একসঙ্গে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।