‘ফার্মের মুরগি’ কটাক্ষের জের! বাংলাদেশে জন্ম নিল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’, ভাইরাল জেন-জির অভিনব আন্দোলন

ভারতের মাটিতে প্রতীকী দলের সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ ঘটল এক সম্পূর্ণ অভিনব রাজনৈতিক দল—’ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ (Broiler Chicken Party)। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য এবং বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও জোর করে উচ্চমাধ্যমিক (HSC) পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই মূলত ফুঁসে উঠেছে জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্ম। এই তীব্র ক্ষোভ থেকেই জন্ম নিয়েছে এই অনলাইনভিত্তিক প্রতীকী দল।
কীভাবে জন্ম নিল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’?
ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে। লাগাতার ভারী বর্ষণে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল যখন জলমগ্ন, তখন প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সরব হন শিক্ষার্থীরা। এই পরিস্থিতিতে ঢাকার এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক শিক্ষামন্ত্রীকে ফোন করলে, কথোপকথনের সময় মন্ত্রী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করে বলেন, “এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসে।”
১৩ জুলাই রাতে এই অডিও ফোনালাপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। মন্ত্রীর এই অবমাননাকর মন্তব্যের জবাব দিতে এবং আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করতে গত ১৪ জুলাই ফেসবুকে ‘Broiler Chicken Party’ নামের পেজটি খোলে শিক্ষার্থীরা। ‘আমরা অপমানিত নই, আমরা জাগ্রত’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পেজ খোলার অল্প সময়ের মধ্যেই এর ফলোয়ার সংখ্যা ৩৩ হাজার পার হয়ে যায়।
দেশজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভে শোরগোল
শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের পর থেকেই ঢাকার সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের মুখে শোনা যায়, “আমি কে, তুমি কে, ফার্মের মুরগি!” স্লোগান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী ও বরিশালের মতো জেলাগুলোতেও এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের একটাই স্পষ্ট দাবি—শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও জল্পনা
এই নতুন প্রতীকী দল এবং আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। শিক্ষক মহলের একটি অংশ একে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কুচক্রী মহল বা বিগত সরকারের গুপ্তবাহিনীর গভীর ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে। অনেকে এর নেপথ্যে পলাতক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হাত রয়েছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
যদিও সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’-র তরফে স্পষ্ট ভাষায় কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। সুশীল সমাজ ও জেন-জির প্রতিনিধিরা বলছেন, আজকের প্রজন্ম অন্যায় দেখলে তাৎক্ষণিক ও জোরালো প্রতিক্রিয়া জানাতে পিছপা হয় না। শেষ পর্যন্ত এই প্রতীকী আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদী কোনো রূপ নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।