দিল্লিতে এনডিএ বৈঠকে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা, সুদীপ-কাকলিদের সঙ্গে সাক্ষাতে ইতিবাচক শুভেন্দু!

দিল্লি: লোকসভা ভোটের পর থেকেই রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে চলা দ্বন্দ্ব এবার জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। এনডিএ-র (NDA) আসন্ন বৈঠকে আমন্ত্রিত হলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। শুধু তাই নয়, বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও এই বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও ব্যস্ততার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে, তবে এই রাজনৈতিক তৎপরতা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালেই দিল্লিতে এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় জানিয়েছিলেন, দুপুর নাগাদ দলত্যাগী সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সাংসদদের দাবি, দলের বিভিন্ন নীতি ও নির্দেশ নিয়ে তাঁদের মনে বেশ কিছু ধোঁয়াশা ও প্রশ্ন রয়েছে, যা তাঁরা শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরতে চান। একই সঙ্গে নিজেদের মতামতও পেশ করতে পারেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, দলত্যাগী এই সাংসদরা তাঁদের দল এনসিপিআই-C (NCPI)-এর সঙ্গে মার্জার বা সংযুক্তকরণের জন্য লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। তা সত্ত্বেও এনডিএ জোটের পক্ষ থেকে তাঁদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে। লোকসভার ২৮ জন সাংসদের মধ্যে প্রায় ২০ জনই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খোলে এবং এনসিপিআই নামের একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের রূপরেখা সামনে আসে।
সংসদের চলতি অধিবেশনের সর্বদলীয় বৈঠকেও এই বদল স্পষ্ট হয়েছে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর আমন্ত্রণে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার ওই বৈঠকে অংশ নেন। এর জেরে বিরোধীরা সাময়িক ওয়াকআউট করলেও এই রাজনৈতিক পদক্ষেপ জাতীয় স্তরে তৃণমূলের সংগঠনকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। স্পিকার যদি এই মার্জারে আইনি স্বীকৃতি দেন, তবে এই সাংসদরা পাকাপাকিভাবে এনডিএ-র শরিক হিসেবে গণ্য হবেন।
দিল্লির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংকট চরমে পৌঁছেছে। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে একটি বড় অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। সব মিলিয়ে, লোকসভা ও বিধানসভা—উভয় ক্ষেত্রেই শাসক শিবিরের এই ভাঙন আগামী দিনে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।