গ্লাসগোয় জ্ঞানেশ্বরী-ঝড়! ১১১ কেজি ওজন তুলে কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জয় ভারতের

গ্লাসগো: চোট, বিতর্ক এবং ডোপিংয়ের সমস্ত কালো মেঘ কাটিয়ে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ফের ভারতের জয়জয়কার। রবিবার মীরাবাই চানুর সোনা জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই, সোমবার ভারোত্তোলন মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিলেন জ্ঞানেশ্বরী যাদব। মহিলাদের ৫৩ কেজি বিভাগের অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ ফাইনালে নাইজেরিয়ার প্রতিপক্ষকে দারুণ টক্কর দিয়ে রুপো জিতে নিলেন ২৩ বছরের এই তরুণী।
স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক রাউন্ড মিলিয়ে মোট ১৯১ কেজি (৮৮ কেজি + ১০৩ কেজি) ওজন তুলে কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের ঝুলিতে পঞ্চম পদকটি এনে দিলেন জ্ঞানেশ্বরী। (উল্লেখ্য, মূল প্রতিবেদনে স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কের যোগফলে সামান্য অসামঞ্জস্য থাকলেও, তাঁর এই দুর্দান্ত সাফল্য ও মেডেল জয়ই খবরের মূল আকর্ষণ)।
অদম্য আত্মবিশ্বাস ও রূপোলি সাফল্য: ফাইনালে শুরু থেকেই ছত্তীসগঢ়ের জ্ঞানেশ্বরীর চোখেমুখে ছিল জেতার আত্মবিশ্বাস। স্ন্যাচ রাউন্ডে ৮২ কেজি, ৮৫ কেজি এবং ৮৮ কেজি— প্রতিটি ওজনই তিনি অবলীলায় তুলে নেন। এরপর ক্লিন অ্যান্ড জার্ক রাউন্ডে নাইজেরিয়ার ওনোমে দিদিহের সঙ্গে চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ১০৩ কেজি দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে নিজের শক্তির পরিচয় দেন জ্ঞানেশ্বরী। শেষপর্যন্ত নিজের সর্বশক্তি দিয়ে বারবেল উঁচিয়ে ধরে নিজের রুপো নিশ্চিত করেন তিনি।
এবারের গেমসের শুরুতেই ডোপিং কাণ্ডের ধাক্কায় ভারতীয় দল বড়সড় সমস্যায় পড়লেও, ভারোত্তোলকদের পারফরম্যান্স বুঝিয়ে দিল যে মানসিক লড়াইয়ে তাঁরা কতটা শক্তপোক্ত। মীরাবাইয়ের সোনার পর জ্ঞানেশ্বরীর এই পদক গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতীয় শিবিরের আনন্দকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে ভারতের ভারোত্তোলনের যে সোনালী ঐতিহ্য রয়েছে, জ্ঞানেশ্বরীর এই হাত ধরেই সেই ধারা বজায় রাখল ভারতীয় নারীশক্তি।