‘অসাংবিধানিক’! কারুরে পদপিষ্টে মৃতদের পরিবারকে বিজয়ের দেওয়া চাকরির সিদ্ধান্ত খারিজ হাইকোর্টের

মাদ্রাজ হাইকোর্টে বড় ধাক্কাত খেলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। কারুরে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি দিয়েছিলেন থালাপতি বিজয়। তবে সেই চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। এমনকি, ওই পরিবারগুলিকে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ‘অসাংবিধানিক’ বলেও জানিয়েছে আদালত।
পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনা
প্রায় নয় মাস আগে তামিলনাড়ুর কারুরে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে পদপিষ্ট হয়ে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর কারুরে ওই সমাবেশ ডেকেছিল বিজয়ের দল টিভিকে (TVK)। সেই সভায় বিজয় দেরিতে পৌঁছানোর কারণে ভিড় আরও বেশি মাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল। অনুষ্ঠানে নানা ধরনের অব্যবস্থার কথাও জানিয়েছিল পুলিশ। যদিও টিভিকে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টে পুলিশের বিরুদ্ধেই ব্যর্থতার অভিযোগ তোলে এবং ক্ষমতায় আসার পর ঘটনার জন্য পুলিশের ওপর ভরসা রাখার কথা জানায়।
চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান
গত ১০ জুলাই কারুরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে ওই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৩২ জনের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন থালাপতি বিজয়।
আইনি বিতর্ক ও জট
নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার আগেই আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। মাদ্রাজ হাইকোর্টে একটি আবেদন করে এই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়। সেসময় আদালত জানিয়েছিল, নিয়োগপত্র বিতরণে কোনও বাধা নেই, তবে ওই চাকরিগুলি অস্থায়ী হবে এবং মামলার চূড়ান্ত রায়ের উপর সমস্ত কিছু নির্ভর করবে।
কেন চাকরি বাতিল করল হাইকোর্ট?
সোমবার মাদ্রাজ হাইকোর্ট সেই নিয়োগ বাতিল করে দেয়। তামিলগা ভেত্রি কাঝাগম (TVK) সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে ঘোষণা করে আদালত। বিচারপতির মতে, মৃতদের পরিবারের সদস্যদের এইভাবে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারতীয় সংবিধানের ১৪ এবং ১৬ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছে (যেখানে যথাক্রমে আইনের চোখে সমতা এবং সরকারি চাকরিতে সমতার অধিকারের কথা বলা হয়েছে)। হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করে যে, এই ধরনের পদক্ষেপ অন্যদের জন্যও এই জাতীয় চাকরির দাবি জানানোর পথ উন্মুক্ত করে দেবে।
আদালতে বিরোধিতাও জোরালো হয়
আদালতে আবেদনকারীর আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, কোনও দুর্ঘটনা বা রাজনৈতিক সভার ট্র্যাজেডিতে নিহতদের পরিবারকে সরাসরি সরকারি চাকরি দেওয়া হলে সাধারণ এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের মৌলিক অধিকার খর্ব হয়। এছাড়া কারুরের ঘটনার তদন্ত বর্তমানে সিবিআই করছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে এ ভাবে চাকরি দেওয়া হলে তা মামলার সাক্ষী ও তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে ডিএমকে। একই সুর শোনা যায় এআইএডিএমকে নেতা আর বি উদয়কুমারের গলাতেও। তাঁর মতে, বহু যোগ্য ব্যক্তি বছরের পর বছর সরকারি চাকরির অপেক্ষায় থাকলেও তা পান না, ফলে রাজনৈতিক কারণে নিয়ম লঙ্ঘন করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারি চাকরি দেওয়া একটি ভুল পদ্ধতি।