“দু’জন ধাওয়া করছে, টিকিট কেড়ে নিয়েছে”, রাজস্থান থেকে ফেরার সময় ফোন করে উধাও পরিযায়ী শ্রমিক!

“দু’জন ধাওয়া করছে, টিকিট কেড়ে নিয়েছে”, রাজস্থান থেকে ফেরার সময় ফোন করে উধাও পরিযায়ী শ্রমিক!

কাজের সন্ধানে রাজস্থানে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলেন পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার এক পরিযায়ী শ্রমিক। বাড়ি ফেরার পথে তাঁর এই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগে রয়েছে পরিবার। একাধিক জায়গায় অভিযোগ জানিয়েও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। একমাত্র ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তাঁর অসহায় মা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ ওই যুবকের নাম সন্তু মণ্ডল। তাঁর বাড়ি পাঁশকুড়া থানার সিদ্দা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দেহাটি গ্রামে। গত ১৬ জুলাই রথযাত্রার দিন কাজের উদ্দেশ্যে রাজস্থানের যোধপুরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহ কাট না কাটতেই ফের বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন সন্তু।

পরিবারের দাবি, গত ২৩ জুলাই রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে যোধপুর-হাওড়া এক্সপ্রেসে ওঠার পর নিজের খুড়তুতো ভাইকে ফোন করে ট্রেনে ওঠার খবর জানান সন্তু। এতে পরিবারের সবাই নিশ্চিন্ত হন।

কিন্তু বিপত্তি ঘটে পরের দিন সকালে। পরিবারের অভিযোগ, গত ২৪ জুলাই সকাল ১০টা নাগাদ সন্তু আকস্মিক ফোন করে জানান যে, দু’জন লোক তাঁকে ধাওয়া করছে। এরপর কিছু সময় বাদে ফের ফোন করে জানান যে তাঁর টিকিটটি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দ্রুত তাঁকে ফোনপে-র মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠানোর অনুরোধ জানান। ভাইয়ের পক্ষ থেকে সেইমতো টাকা পাঠিয়েও দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরেই সন্তুর মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ছেলের এমন ঘটনায় দিশাহারা হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। প্রথমে পাঁশকুড়া থানায় গেলে তাঁদের হাওড়া রেল জিআরপির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে হাওড়া রেল জিআরপি ও পাঁশকুড়া জিআরপি-তে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিভিন্ন স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজও।

এদিকে, ঘটনার এত দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত সন্তুর কোনো খোঁজ মেলেনি। একমাত্র ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবরে বুক ফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর স্বামীহারা মা। প্রশাসনের কাছে তাঁর আকুল আবেদন, যেভাবেই হোক যেন তাঁর ছেলেকে দ্রুত খুঁজে বের করে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *