বিদ্রোহী সাংসদদের পদ খারিজ নিয়ে স্পিকারের ওপর চাপ বাড়াল তৃণমূল, সাক্ষাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

বিদ্রোহী সাংসদদের পদ খারিজ নিয়ে স্পিকারের ওপর চাপ বাড়াল তৃণমূল, সাক্ষাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

দিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া বিদ্রোহী কুড়ি জন সাংসদের দলবদল এবং এনসিপিআই (NCPI)-এর সঙ্গে সংযুক্তির বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ওই কুড়ি জন বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ খারিজের জোরালো দাবি জানিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই দাবির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।

তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মোট ছয় জন সাংসদ এ দিন স্পিকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন।

স্পিকারের কাছে তৃণমূলের মূল দাবিগুলি কী ছিল?

এ দিনের এই প্রতিনিধি দলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় সহ অন্যান্যরা। স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সৌগত রায় পুরো বিষয়টি স্পষ্ট করেন। মূলত তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল শিবির:

  • ১. পদ খারিজের দ্রুত নিষ্পত্তি: এর আগে কুড়ি জন বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ খারিজের আর্জি জানিয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তার নিষ্পত্তি কেন এখনও ঝুলে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই বিষয়ে স্পিকারকে অবিলম্বে কঠোর ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
  • ২. আসনের পুনর্বিন্যাস নিয়ে আপত্তি: এনসিপিআই এখনও পর্যন্ত সংসদীয় দল হিসেবে আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা মান্যতা পায়নি। অথচ তাদের লোকসভায় বসার জন্য আলাদা আসন বরাদ্দ করে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল সাংসদদের না জানিয়ে বা কোনো রকম পূর্বানুমতি ছাড়াই এই আসন বদল করা নিয়ে স্পিকারের কাছে কড়া ক্ষোভ ও নালিশ জানানো হয়েছে। দলের দাবি, স্বীকৃতিহীন একটি দলকে এভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া নিয়মবহির্ভূত।
  • ৩. কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন প্রত্যাহার: এ দিন লোকসভার স্পিকারের কাছে দলের পক্ষ থেকে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর জারি থাকা বরখাস্তের নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জোরালো আবেদনও জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, এনসিপিআই এবং বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থানকে কেন্দ্র করে দিল্লির সংসদ চত্বরে রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন চরমে। স্পিকার এই বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *