বিয়ের চাপ দেওয়ায় প্রেমিকাকে খুন! পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে গ্রেফতার ব্যাংক কর্মী

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে চাঞ্চল্যকর ব্যাংক কর্মী পালক হত্যা মামলার কিনারা করল পুলিশ। প্রথম দিকে একে অগ্নিকাণ্ড বা সাধারণ দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, পুলিশের চুলচেরা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে হাড়হিম করা সত্য। এটি কোনো দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা ছিল না, বরং একটি ঠান্ডা মাথায় করা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড (Premeditated Murder)।
এই জঘন্য অপরাধের অভিযোগে পুলিশ নিহতের প্রেমিক মায়ঙ্ক শাক্যকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ২৬ বছর বয়সী পালক কেশব হারদা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ইন্দোরের খাজরানা থানা এলাকার তপেশ্বরী বাগে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন এবং আইসিআইসিআই (ICICI) ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রেম থেকে মর্মান্তিক পরিণতি
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ২০২০ সালে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পালক ও মায়ঙ্কের পরিচয় এবং বন্ধুত্ব হয়। পরবর্তীতে সেই বন্ধুত্ব গভীর প্রেমে রূপ নেয়। অভিযুক্ত মায়ঙ্ক শাক্য মূলত ডাবরার বাসিন্দা।
কয়েক মাস ধরে পালক মায়ঙ্ককে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু মায়ঙ্ক বিয়ে করতে রাজি ছিল না। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়শই তীব্র বাদানুবাদ হতো। ঘটনার দিন বিবাদ চরম সীমায় পৌঁছালে ক্ষিপ্ত হয়ে মায়ঙ্ক পালককে শ্বাসরোধ করে খুন করে।
প্রমাণ লোপাটে গ্যাস সিলিন্ডার কেটে আগুনের নাটক!
খুন করার পর নিজের অপরাধ ঢাকতে ও পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে শয়তানি বুদ্ধির আশ্রয় নেয় মায়ঙ্ক:
শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন: পালককে শ্বাসরোধ করে মারার পর মায়ঙ্ক তাঁর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গ্যাস লিকের নাটক: ঘটনাটিকে গ্যাস সিলিন্ডার লিকের দুর্ঘটনা হিসেবে চালাতে সে রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপ কেটে রেখে চম্পট দেয়।
তবে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত এবং ফরেন্সিক দলের বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশের মনে শুরুতেই সন্দেহের দানা বাঁধে। পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত প্রমাণের সহায়তায় আসল রহস্য ফাঁস হয়।
ইলেকট্রনিক্স প্রমাণ ধরে জালে মায়ঙ্ক
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে খাজরানা থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত মায়ঙ্ক শাক্যকে গ্রেফতার করেছে।
ইন্দোর পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নিহতের মোবাইল চ্যাট, কল ডিটেইলস (CDR) এবং অন্যান্য ডিজিটাল নথি খতিয়ে দেখা হয়েছে। মায়ঙ্ক বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। ঘটনাটি কি কেবল তর্কাতর্কির জের ধরে হঠাৎ ঘটেছে নাকি মায়ঙ্ক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে খুন করেছে—তা জানতে পুলিশ তাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।