ভেজাল কারবারে মিলছে নামমাত্র জরিমানা, বিপদের মুখে জনস্বাস্থ্য

প্রতিদিনের খাবারের পাতে লুকিয়ে রয়েছে চরম ঝুঁকি। বিশুদ্ধ খাবারের বদলে বিষ খাচ্ছি কি না—তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি লোকসভায় পেশ করা সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে এক আতঙ্কজনক চিত্র: গত কয়েক বছরে দেশজুড়ে পরীক্ষা করা খাদ্য নমুনার প্রায় ২১ শতাংশই গুণগত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এমন গুরুতর অপরাধ সত্ত্বেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বদলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হালকা জরিমানা বা লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপে পার পেয়ে যাচ্ছে ভেজালকারীরা।
মান পরীক্ষায় ফেল ২১% খাদ্য নমুনা
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব লোকসভায় জানান, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এফএসএসএআই (FSSAI) এবং রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা মিলে দেশজুড়ে প্রায় ৮.৮৭ লক্ষ খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ১.৮৫ লক্ষ নমুনা গুণগত বিচারে পুরোপুরি ফেল করেছে। মানহীন ও ভেজাল খাদ্যের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উত্তর প্রদেশ।
শুধু ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষেই ২,২৩,৮০৮টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ৪০,০২৩টি নমুনা ছিল ত্রুটিপূর্ণ। অত্যন্ত চিন্তার বিষয় হলো, এর মধ্যে ৯,০৮৬টি খাবার ছিল সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও বিষাক্ত।
শাস্তির হার অত্যন্ত ধীর ও শিথিল
জনস্বাস্থ্য নিয়ে এই ছিনিমিনির বিপরীতে কঠোর আইনি ব্যবস্থার ছবিটা বেশ দুর্বল:
- দেওয়ানি মামলা: ৩১,৮৭৮টি মামলায় মোট ১০৯.১১ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
- ফোজদারি মামলা: মাত্র ১,৯১৮টি মামলায় অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করে ৫.৭১ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অর্থাৎ, সরাসরি প্রাণহানির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ফৌজদারি সাজার বদলে কেবল জরিমানা দিয়েই দায় সেরেছে প্রশাসন।
গুজরাটের খতিয়ান: বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি
গুজরাটের তথ্য থেকে এই বিচারহীনতার চিত্র আরও পরিষ্কার হয়। ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে রাজ্যটিতে ৬৮,৩৫৬টি নমুনা পরীক্ষার পর ৪,৪৩৭টি খাবার নিম্নমানের প্রমাণিত হয়। প্রশাসন ৪,৬১৭টি ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করলেও, শেষ পর্যন্ত আদালতে গিয়ে মাত্র ২৫৯টি ক্ষেত্রে দোষীদের সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং বাস্তবে সাজা হওয়ার মধ্যে এই বিশাল ব্যবধান ভেজালকারীদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।