“সব দায় আমার, ভয়ের কিছু নেই!” পেলেট বিতর্কে জওয়ানদের শক্ত ঢাল সিআরপিএফ ডিজি

রাজধানীর জনবহুল জন্তরমন্তর এলাকায় সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর পেলেট গান বা স্প্রে-জাতীয় অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যেই সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)-এর শীর্ষ প্রধান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তাঁর জওয়ানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনের খাতিরে জওয়ানরা যে পদক্ষেপই গ্রহণ করুন না কেন, তার সমস্ত দায়ভার একজন প্রধান হিসেবে তিনি নিজে গ্রহণ করবেন।
একটি বিশেষ সংবর্ধনা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় সিআরপিএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল (DG) জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং বলেন, “অপারেশনাল ব্যাটালিয়ন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ইউনিট— দেশের স্বার্থে এবং পেশাগত দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করতে গিয়ে জওয়ানদের নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্তের আইনি ও প্রশাসনিক দায়ভার আমি নিজে মাথা পেতে নেব।”
জওয়ানদের উদ্দেশ্যে দৃঢ় কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “কোনো রকম ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই আপনারা আপনাদের দৈনন্দিন কর্তব্য ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যান। যেখানেই প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বা দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে, সিআরপিএফ ডিজি হিসেবে সেই দায়িত্ব আমি নিজেই সামলাব।”
পটভূমি ও পেলেট বিতর্কের সূচনা: উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই বিতর্কিত ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র পক্ষ থেকে ‘চলো সংসদ’ শীর্ষক এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই কর্মসূচি চলাকালীন জন্তরমন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
দিল্লি পুলিশের দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৫ জন বিক্ষোভকারী এবং ২০০-র বেশি পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে স্প্রে বা প্লাস্টিক পেলেট ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে।
জাতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, সিআরপিএফ-এর অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে যে ওই দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর এক জওয়ান পেলেট গান থেকে মোট ৭ রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৫টি পেলেট বিক্ষোভকারীদের শরীরে লাগে। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের এই অভিযোগ ঘিরে যখন দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই সিআরপিএফ প্রধানের এই সরাসরি দায়গ্রহণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা।