জীবনের মূল্য নথির চেয়ে বড়! অনাত্মীয়ের কিডনি দানে কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ

রক্তের সম্পর্কই কি সবকিছু? বিপদের দিনে অনেক সময় অনাত্মীয়ও পরম আপন হয়ে ওঠেন। আর বিষয়টি যখন প্রাণ বাঁচানোর, তখন মানুষের সহানুভূতিই আসল। এই ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়েই কিডনি দান সংক্রান্ত একটি মামলায় নজিরবিহীন নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
ঘটনার সূত্রপাত চিন্টু খাঁড়া নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে, যার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। বাঁচতে হলে কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া উপায় ছিল না। এই খবর পেয়ে এগিয়ে আসেন তাঁর একসময়ের গাড়িচালকের স্ত্রী রূপা সাহা। তিনি স্বেচ্ছায় চিন্টুকে নিজের একটি কিডনি দান করতে চান এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে সে কথা জানান।
কিন্তু বাধ সাধে সরকারি ‘অথরাইজেশন কমিটি’। দাতা ও গ্রহীতা পরস্পরের নিকটাত্মীয় নন এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিচিতির কোনো লিখিত নথি নেই— এই অজুহাতে কমিটি কিডনি হস্তান্তরে অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। বাধ্য হয়ে স্বামীর জীবন বাঁচাতে হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়েন চিন্টুর স্ত্রী সুনীতা খাঁড়া। মামলাটি ওঠে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে।
আদালতে পেশ করা ভিডিও রেকর্ডিংয়ে রূপা সাহা জানান, প্রেমানন্দ মহারাজের উপদেশে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এই মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় উঠে আসে যে, ২০১৪-১৫ সাল থেকেই দুটি পরিবার পরস্পরকে চেনে। এমনকি রূপাদের গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠানেও চিন্টু বাবুরা উপস্থিত ছিলেন।
সব শুনে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানান, সব সম্পর্কের গভীরতা কাগজ-কলমে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। অনাত্মীয় হলেই কিডনি দান বেআইনি হয়ে যায় না। অথরাইজেশন কমিটির কাজ হলো এতে কোনো আর্থিক লেনদেন বা বেআইনি বিষয় জড়িত আছে কি না তা দেখা, নথির দোহাই দিয়ে আইনি বাধা সৃষ্টি করা নয়।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “জীবনের মূল্য নথির চেয়ে অনেক বেশি।” আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অথরাইজেশন কমিটিকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে অসুস্থ চিন্টুর পরিবার।