দিনে দর্জি, রাতে জঙ্গি! জইশ লিংকে বর্ধমানে ধরা পড়ল হামিদ, নিশানায় কি হেভিওয়েট নেতারা?

দিনে পোশাক তৈরির কারখানা বা দর্জির কাজ, আর আড়ালে পাক জঙ্গি সংগঠনের হয়ে চরমপন্থি কারসাজি—সাধারণ এক খেটে খাওয়া যুবকের মুখোশের আড়ালে скрыত ছিল এক ভয়ঙ্কর পরিচয়! পূর্ব বর্ধমানের আবাসন থেকে হামিদ মণ্ডল নামে এক সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) এজেন্টকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (STF)। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, রাজ্যের হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল এই অভিযুক্ত।

পিলখানা থেকে বর্ধমান—রহস্যময় স্থান পরিবর্তন: এসটিএফ সূত্রে খবর, হামিদের আসল বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কুসুমগ্রামে হলেও দীর্ঘদিন তিনি হাওড়ার পিলখানা এলাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সম্প্রতি পিলখানায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে তিনি বর্ধমানের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন রেনেসাঁ কমপ্লেক্সে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে সেখানেই অভিযান চালিয়ে তাঁকে জালে তোলে এসটিএফ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ISI ও জইশ লিংক: গত কয়েক মাস ধরেই হামিদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন গোয়েন্দারা। তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে একাধিক সন্দেহভাজন নথি ও তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, ইনস্টাগ্রামের একটি বিশেষ পেজের মাধ্যমে তিনি পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সক্রিয় জইশ-ই-মহম্মদের সাজ্জাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। পাকিস্তানে থাকা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গেও তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

শুভেন্দু অধিকারী সহ হেভিওয়েটদের ওপর নজরদারি? তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বর্ধমানে আসার আগে কলকাতার নিউটাউনে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন হামিদ। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক সন্দেহ, সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্যের একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন তিনি। তবে বিষয়টি নিয়ে অফিশিয়ালি এখনও কিছু নিশ্চিত করা হয়নি, তদন্ত জারি রয়েছে।

হামিদ আসল পরিচয় গোপন করেছিলেন কিনা এবং নিউটাউন ও বর্ধমানের ফ্ল্যাট মালিকদের ভূমিকা কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে এসটিএফ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *