“নারীর গোপনাঙ্গে* যন্ত্র প্রবেশ করানো মানেই ধর্ষণ!”—কেরালা হাইকোর্টের নজিরবিহীন ও কঠোর রায়

নারীর গোপনাঙ্গে কৃত্রিম যন্ত্র প্রবেশ করানো সাধারণ যৌন নিপীড়ন নয়, এটি সরাসরি পকসো (POCSO) আইনের অধীনে ‘প্রবেশমূলক যৌন নিপীড়ন’ এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৭৫(খ) ধারা অনুযায়ী সরাসরি ধর্ষণের শামিল। ত্রিশূরের বাসিন্দা অভিযুক্ত জোশী কেজে-র আপিল আবেদন খারিজ করে সম্প্রতি এই যুগান্তকারী ও কঠোর রায় দিয়েছে কেরালা হাইকোর্ট।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০১৯ সালের ঘটনা। দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর ১৭ বছরের এক কিশোরী উচ্চশিক্ষা ও চাকরির খোঁজে মনসুন মাভুঙ্কাল নামে এক কুখ্যাত ভুয়া পুরাকীর্তি সংগ্রাহকের ফাঁদে পড়ে। কসমেটোলজি প্রশিক্ষণ ও লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনে অভিযুক্তরা।
পৈশাচিক নির্যাতন: তদন্তকারী দল ‘ক্রাইম ব্রাঞ্চ’-এর তথ্য অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত মনসুনের সহযোগী জোশী ওই কিশোরীকে জোর করে একটি চিকিৎসাকক্ষে টেনে নিয়ে যায় এবং একটি চালু থাকা ভাইব্রেটিং ডিভাইস বলপূর্বক তার শরীরে প্রবেশ করায়। ঘটনার পর কাউকে কিছু না বলার জন্য মেয়েটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মূল অভিযুক্ত মনসুন গ্রেপ্তার হলে ভুক্তভোগী কিশোরী সাহস জুগিয়ে তার ওপর হওয়া এই পৈশাচিকতার কথা প্রকাশ্যে আনে।
আদালতের ঐতিহাসিক রায়: নিম্ন আদালত এই মামলায় অভিযুক্ত জোশীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল। কেরালা হাইকোর্ট সেই রায় বহাল রেখে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়—বলপূর্বক শরীর স্পর্শ বা কৃত্রিম যন্ত্রের ব্যবহার অপরাধের তীব্রতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। এই ধরনের অপরাধে পকসো ও দণ্ডবিধির অধীনে নির্ধারিত সর্বনিম্ন ১০ বছরের সাজা থেকে কোনোভাবেই ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।