৬৪ লাখের চাকরিকে ‘আলবিদা’! মানসিক শান্তির খোঁজে রিসেপশনিস্ট হলেন তরুণী

আজকের তীব্র প্রতিযোগিতার যুগে সবাই যখন মোটা অঙ্কের বেতন আর কর্পোরেট জগতের শীর্ষে পৌঁছানোর ইঁদুর দৌড়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই স্রোতের বিপরীতে হেঁটে এক নজির গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রেস ম্যাকক্লেল্যান্ড। অতিরিক্ত কাজের চাপ আর মানসিক অশান্তি থেকে বাঁচতে তিনি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিলেন প্রায় ৬৪ লক্ষ (অস্ট্রেলীয় মূল্যে) টাকার লোভনীয় চাকরি, এবং যোগ দিলেন একজন সাধারণ রিসেপশনিস্টের পদে।
ইঁদুর দৌড় ও মানসিক বিপর্যয়
মেধা ও পরিশ্রমের জোরে কম বয়সেই একটি নামী প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজারের পদে উন্নীত হয়েছিলেন গ্রেস। কিন্তু পদ বাড়ার সাথে সাথে লাগামহীন কাজের চাপ তাঁর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। নিজেকে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করার এই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে কোনো বিকল্প চাকরি হাতে না রেখেই তিনি এক লহমায় ইস্তফা দেন।
মোটা অঙ্কের মোহমুক্তি
ইস্তফার পর একটি বিলাসবহুল কো ম্পা নি গ্রেসকে বিদেশ ভ্রমণ, পারফরম্যান্স বোনাস এবং বার্ষিক প্রায় ৬৪ লক্ষ টাকার প্যাকেজে উচ্চপদে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তিনি যোগও দেন, কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন যে চোখধাঁধানো অফিস আর মোটা অঙ্কের বেতন তাঁকে প্রকৃত মানসিক শান্তি দিতে পারছে না।
“দীর্ঘদিনের মানসিক অস্থিরতা ও বিষণ্নতা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য এই চাকরি বদলটা আমার কাছে একটা জরুরি থেরাপির মতো ছিল।”
— গ্রেস ম্যাকক্লেল্যান্ড
কম বেতন, কিন্তু নিখাদ মানসিক শান্তি
অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তিনি সব জাঁকজমক ছেড়ে একটি কর্পোরেট সংস্থায় রিসেপশনিস্ট ও অফিস ম্যানেজার হিসেবে নতুন কাজ শুরু করেন। এর ফলে তাঁর আয় এক ধাক্কায় প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়।
তবে আয় কমলেও বর্তমানে তিনি অত্যন্ত সুখী। কাজের নির্দিষ্ট সময়ের পর বাড়তি মেলা অবসর সময়ে তিনি ক্রুশের কাজ (ক্রোশেট) করছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কনটেন্ট তৈরি করছেন—যা এখন তাঁর অতিরিক্ত উপার্জনের পথও খুলে দিয়েছে। গ্রেসের এই সাহসিক সিদ্ধান্ত বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্র ও মানসিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য নিয়ে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে।