কুলগামে ফের জঙ্গি থাবা: পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিতে ঝাঁঝরা পরিযায়ী শ্রমিক, উত্তপ্ত কাশ্মীর!

কুলগামে ফের জঙ্গি থাবা: পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিতে ঝাঁঝরা পরিযায়ী শ্রমিক, উত্তপ্ত কাশ্মীর!

খাস খবর: উপত্যকায় আবার থাবা বসাল সন্ত্রাস। দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার কিলাম গ্রামে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হলো এক পরিযায়ী শ্রমিককে। বর্বরোচিত এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক শ্রমিক। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত দু’জনেই ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরের বাসিন্দা এবং কুলগামের একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। চলতি মাসেই কাশ্মীরে এটি দ্বিতীয় জঙ্গি হামলার ঘটনা, যা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে পুরো উপত্যকায়।

কাশ্মীর পরিসরের পুলিশের আইজিপি ভি কে বার্দি জানিয়েছেন, হামলায় ঘটনাস্থলেই দীপক নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ভূপিন্দর নামে অপর শ্রমিককে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

উপত্যকার ইটভাটাগুলি মূলত ভিনরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। স্বল্প সময়ের মরশুমি কাজের তাগিদে প্রতি বছর উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড়সহ নানা রাজ্য থেকে প্রায় লাখ লাখ মানুষ কাশ্মীরে আসেন। তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় ১৫ জনেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিকের প্রাণ গেছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ: এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

  • উপ-রাজ্যপাল মনোজ সিনহা: শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে নির্দেশ দিয়েছেন, “অভিযান আরও জোরদার করে জঙ্গিদের দ্রুত নির্মূল করতে হবে।” ইতিমধ্যেই পুরো এলাকা ঘিরে ধরে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে সেনা ও পুলিশ।
  • মেহবুবা মুফতি (পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি): “পরিবার প্রতিপালনের জন্য এরা ঘরবাড়ি ছেড়ে বহু দূরে এসে পরিশ্রম করেন। এমন অন্ধ হিংসার শিকার বানানো চরম নিষ্ঠুরতা।”
  • ন্যাশনাল কনফারেন্স: “স্রেফ জীবিকা নির্বাহ করতে আসা মানুষের ওপর এই বর্বরতা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।”
  • সুনীল শর্মা (বিরোধী দলনেতা): এই আক্রমণকে “কাপুরুষোচিত ও বর্বর” আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, উপত্যকার শান্তি বিনষ্ট করতেই এই চক্রান্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *