রুশ তেল কিনলেই ১০০% ট্রাম্প-ট্যাক্স! ভারতের ওপর বড় মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ

ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে আবার অনিশ্চয়তার মেঘ দানা বাঁধছে। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা দেশগুলির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসাতে মার্কিন সেনেটে পেশ করা হয়েছে একটি অত্যন্ত কড়া বিল— ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’।
বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারত, চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজানের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর পূর্ণ ক্ষমতা পাবেন। একই সাথে রাশিয়া থেকে সরাসরি আমেরিকায় আসা পণ্যে ৫০০% শুল্ক এবং ইরানের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাবও এতে রাখা হয়েছে।
ভারতের অর্থনীতিতে যে সব প্রভাব পড়তে পারে:
- জ্বালানি নিরাপত্তায় টান: বর্তমানে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে। মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিকল্প পথ বন্ধ থাকলে ভারতীয় অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
- পরিবহন খরচ বৃদ্ধি: অর্থনীতিবিদদের মতে, রাশিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য দেশ থেকে তেল আনতে গেলে পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ক্যাসকেডিং প্রভাব তৈরি করবে।
- ওষুধ শিল্পে আঘাত: মার্কিন সেনেটের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে জেনেরিক ওষুধের ওপর ১০০% থেকে ২০০% শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। আমেরিকা তাদের জেনেরিক ওষুধের ৪০% চাহিদা ভারত থেকেই মেটায়, ফলে এই সিদ্ধান্তে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি বিপাকে পড়বে।
- দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে জট: ২০২৫ সালে ঘোষিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ ইতিমধ্যেই আটকে রয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত উপযুক্ত বাণিজ্যিক সুবিধা না পেলে এই চুক্তিতে এগোবে না।
বর্তমান স্থিতি: বিলটি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদসহ অন্যান্য আইনি ধাপ পেরোতে কিছুটা সময় নেবে। তবে মার্কিন সেনেটররা দ্রুত এটি পাস করানোর বিষয়ে আশাবাদী। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের কড়া বাণিজ্যিক নীতি নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণকে নতুন কোন মোড়ে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।