হাওড়ার কাপড়ের কারখানায় জঙ্গি ডেরা? হাওড়া থেকেই কি নাশকতার ছক কষতেন হামিম?

হাওড়া/কলকাতা: জঙ্গিযোগে ধৃত হামিম মণ্ডলের কারখানার খোঁজ মিলল হাওড়ায়। পাকিস্তানের মাদক এবং অস্ত্রপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বর্ধমান থেকে ধৃত হামিম মণ্ডল মূলত হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা এলাকার পিলখানায় যাতায়াত করতেন।
তদন্তকারীরা পিলখানার ৭ নম্বর আলম মিস্ত্রি লেনে একটি কাপড়ের কারখানার খোঁজ পেয়েছেন। সেখানে মূলত রেডিমেড পোশাকে ট্যাগ লাগানোর কাজ চলত। আট মাস ধরে হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল কারখানার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। এক মহিলা এবং তিন পুরুষ কর্মী সেখানে কাজ করতেন। হামিম নিজেই এই কারখানায় বাবাকে সাহায্য করতেন।
তবে গোয়েন্দাদের মনে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হামিমের সরাসরি যোগ মিলেছে পাকিস্তানের ‘কুখ্যাত’ গ্যাংস্টার শাহজ়াদ ভট্টি এবং তার সঙ্গী আজমল গুজ্জরের সঙ্গে। শাহজ়াদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান থেকে ভারতে মাদক ও অস্ত্রপাচার এবং নাশকতার জন্য হাওয়ালা মাধ্যমে অর্থের লেনদেনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মুম্বইয়ে বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে লরেন্স গোষ্ঠীকে সাহায্য করার অভিযোগও রয়েছে শাহজ়াদের বিরুদ্ধে। এই চক্রান্তের পেছনে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হাত রয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এই কারখানার আড়ালে কি হামিম এবং শাহজ়াদ মিলে এ রাজ্যে কোনও বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন? গত শুক্রবার গ্রেফতারের পর হামিম মণ্ডলকে ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ওপর নজরদারির চাঞ্চল্যকর তথ্য
গোয়েন্দাদের দাবি, শাহজ়াদের সঙ্গে সমাজমাধ্যমের সূত্রে পরিচয় হয় হামিমের। তাঁরা দুজনে নিয়মিত কথা বলতেন। হামিম হাওয়ালা মাধ্যমে প্রচুর অর্থ পেয়েছেন বলেও গোয়েন্দারা মনে করছেন। তাঁকে এ রাজ্যে বড় দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, নাশকতার প্রস্তুতি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সমেত রাজ্যের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তির গতিবিধির ওপর নজর রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হামিমকে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথি এবং চ্যাট থেকেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।
হামিম মণ্ডল এবং পাকিস্তানি চক্রের পরিকল্পনার বিস্তারিত জানতে গোয়েন্দারা তাঁর মাদক ও অস্ত্রপাচারকারী দলের সদস্যদের খোঁজও চালাচ্ছেন।