শুভেন্দু থেকে দিল্লির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী—পাকিস্তানের নির্দেশে ভিআইপি হানার ছক! বিস্ফোরক তথ্য STF-এর হাতে

শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও দিল্লির ভিআইপি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা ছিলেন হিটলিস্টে! বর্ধমানের আবাসন থেকে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে জেরা করে এবার এমনই চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য উদ্ধার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তকারীদের অনুমান, এই অগস্ট মাসেই একটি বড়সড় প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
সাধারণ চেহারার আড়ালে ভয়ঙ্কর ছক
আবাসনের ভিড়ে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই নিঃশব্দে দিনযাপন করছিল সে। কিন্তু এই ছদ্মবেশের অন্তরালে যে এত বড় নাশকতার জাল বোনা হচ্ছিল, তা দেখে হতবাক প্রতিবেশী থেকে শুরু করে গোয়েন্দারাও। ধৃত হামিম ও তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে জেরা করে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক ‘শাহজাদ ভাট্টি গ্যাং’-এর নির্দেশে এই সমস্ত হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলার নীল নকশা তৈরি হচ্ছিল।
যন্তর মন্তর ও ভুয়ো পুলিশ পোশাকের রহস্য
এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরির নির্দেশ পেয়েছিল হামিম। ওই সুযোগে অশান্তি ছড়াতে হামিমকে কিছু পুলিশের ইউনিফর্ম বা পোশাক জোগাড় করতে বলা হয়েছিল। সেই পোশাক দিয়ে কোনো ছদ্মবেশী হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ওপার বাংলার ‘সবুজ সংকেত’ ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং
তদন্তে জানা গেছে, ভিআইপিদের ওপর হামলা বা যন্তর মন্তরে অশান্তি ছড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহের সবুজ সংকেতও দিয়ে দিয়েছিল ভাট্টি গ্যাং। অর্পিতা সরকারকে জেরায় জানা যায়, সীমান্তের ওপার থেকে পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন হ্যান্ডলার সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।
সাধারণ ফোন নেটওয়ার্ক এড়িয়ে গোয়েন্দাদের নজর এড়াতে তারা ব্যবহার করত ‘Session’ ও ‘Element X’ নামের বিশেষ এনক্রিপ্টেড অ্যাপ। ধৃতদের ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করে ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’-এর মতো একাধিক পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে ‘আবিদ জাট’ ও ‘হামাদ’ সরাসরি অর্পিতার সাথে যোগাযোগ রাখছিল।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক এই জঙ্গি নেটওয়ার্কটি এ দেশে আর কতদূর শিকড় ছড়িয়েছে, তা জানতে জোরকদমে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন এসটিএফ আধিকারিকরা।