“বিদেশে চিকিৎসা কেন? ‘ডায়মন্ড হারবার মডেলেই’ চিকিৎসা হবে অভিষেকের!” — বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা

“বিদেশে চিকিৎসা কেন? ‘ডায়মন্ড হারবার মডেলেই’ চিকিৎসা হবে অভিষেকের!” — বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা

চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি ফের কলকাতা হাইকোর্টের কোর্টেই ঠেলে দিয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিষেককে চরম কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তাঁর সাফ কথা— বিদেশে যাওয়ার কী দরকার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা পশ্চিমবঙ্গেই ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এ করিয়ে দেবে রাজ্য সরকার!

আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা কটাক্ষের সুরে বলেন, “জানি না অভিষেকবাবু বিদেশে যাওয়ার জন্য এত মরিয়া কেন! স্রেফ চিকিৎসার জন্যই এই জেদ, নাকি পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে? ওঁর চোখের সমস্যা হোক কিংবা ব্রেন বা হার্টের সার্জারি— আমরা এখানেই ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর আদলে সেরা চিকিৎসার বন্দোবস্ত করে দেব।”

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলোর বিগত ১৫ বছরের কঙ্কালসার চেহারার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “আমরা এতদিন দেখেছি এক বেডে দুই-তিনজন রোগী শুয়ে থাকেন, এমনকী বেডের পাশে কুকুর-বিড়াল ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু আমরা গ্যারান্টি দিচ্ছি, অভিষেকবাবুকে কোনো কষ্ট পেতে দেব না। ওঁকে আলাদা সিঙ্গেল বেড দেওয়া হবে, ভালো ওষুধ দেওয়া হবে। ‘সেবাশ্রয়ে’ ভুয়া চিকিৎসায় রোগীর পা বাদ যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু অভিষেকের ক্ষেত্রে আসল ওষুধই নিশ্চিত করা হবে। এমনকি টাকার কোনো সমস্যা হলে তা-ও সরকার দেখে নেবে।”

আইনি জটিলতা ও হাইকোর্টের নির্দেশ:

উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে অভিষেকের বিদেশযাত্রা সংক্রান্ত মামলাটি বিচারাধীন ছিল। হাইকোর্টের রায় পছন্দ না হওয়ায় তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান। তবে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকেই নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে হাইকোর্টে রাজ্যের আইনজীবী অভিষেকের বিদেশযাত্রায় আপত্তি জানিয়ে দাবি করেন, তিনি বিদেশে গেলে তদন্তপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল— অভিষেককে প্রথমে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে। বিশেষজ্ঞরা যদি রিপোর্ট দেন যে এই চিকিৎসার সুবিধা কলকাতায় নেই এবং বিদেশে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই, তবেই আদালত বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *