ঘুষ নিলেই সোজা জেল! দুর্নীতি দমনে কোমর বাঁধল রাজ্য, দায়িত্বে ৩ আইপিএস

রাজ্যে দুর্নীতি রুখতে আরও কঠোর অবস্থান নিল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখাকে (Anti-Corruption Branch) আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল করল নবান্ন। এই শাখায় নিয়োগ করা হলো মুরলিধর শর্মা, আকাশ মাঘারিয়া এবং কামনাশিস সেনের মতো ৩ জন অত্যন্ত অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারকে।
অভিজ্ঞ আইপিএসদের পাশাপাশি এই দুর্নীতি দমন শাখায় আরও ১৬ জন অফিসারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশ এসআই (Sub-Inspector) পদমর্যাদার। নির্দেশিকা জারি করে মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যেই সমস্ত আধিকারিকদের নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
কাদের নিয়োগ করা হলো?
- অভিজ্ঞ ৩ আইপিএস: মুরলিধর শর্মা, আকাশ মাঘারিয়া ও কামনাশিস সেন।
- অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক: বিশ্বজিৎ পাত্র, দীপঙ্কর সরকার, সৌমেন বিশ্বাস, সঞ্জয় কুমার মণ্ডলসহ মোট ১৬ জন।
কেন এই পদক্ষেপ? রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা সরকারি কর্মচারী ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ওঠা যে কোনো ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে এই অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ। বিগত দিনে আমফান ত্রাণ কিংবা ‘সেবাশ্রয়’-এর মতো একাধিক সরকারি প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, যেখানে বহু সরকারি আমলা ও আধিকারিকের নাম জড়িয়েছিল।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “সরকারি আধিকারিকরা টাকা নিলেই জেল হবে।” সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এবং নতুন সরকারকে যাতে কোনো প্রশাসনিক দুর্নীতির কারণে অস্বস্তিতে পড়তে না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ।
প্রশাসনের আশা, অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসারদের হাতে দায়িত্ব যাওয়ায় এবার বকেয়া ও নতুন সমস্ত দুর্নীতি মামলার তদন্তে গতি আসবে এবং অপরাধীদের নাম দ্রুত প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হবে।